মেইন ম্যেনু

আইসিটি খাতে ১০ লক্ষ তরুণের কর্মসংস্থান হবে

তথ্য ও প্রযু্ক্তিতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমরা শুধু স্থাপত্য এবং ট্রেনিং করিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করিনি। আমরা কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছি। ২০১৫ সালে শুধু আইসিটি মন্ত্রণালয়ে আমরা ২৩৯ জন প্রতিবন্ধীর চাকরীর ব্যবস্থা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে ১০ লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এই আইসিটি খাতে।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল(বিসিসি) মিলনায়তনে মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সংবাদ সম্মেলনে দুই বছরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অর্জন, চার বছরের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বীকৃতি দিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও। গ্লোবাল সার্ভিস লোকেশন ইনডেক্স ২০১৬ এর র‌্যাংকিং এ বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম হয়েছে যা আগে ২৬ তম ছিল। এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ১০২ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পূর্ণ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ১৮ হাজার ৫০০ এর বেশি সরকারি অফিসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে গেছে। ২৫ হাজারেরও বেশি ট্যাবলেট পিসি দেয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের। সারাদেশে ২০টি অত্যাধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিসিসিতে। উপজেলা গুলোতে ৪৮৭ টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় ডাটা সেন্টারে তিন হাজার টেরা বাইটের বেশি স্টোরেজ রাখা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সরকারের ঈর্ষণীয় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পলক বলেন,‘ দেশে .org সেবা চালু হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ ভারতে সরকারি অ্যাপস ৫৮৫ টা থাকলেও আমরা সরকারি অ্যাপস করেছি ৬০০টি। যা পৃথিবীর সবচে বেশি অ্যাপস সমৃদ্ধ সরকারি সেবা। ৩,৫০০ আাইটি/আইটিইএস ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০ হাজার ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে মহিলাদের জন্য। ৩৯৪ ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডারস বানানো হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তৃতায় হাইটেক পার্ক ও জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মামলা নিস্পত্তি করে কাজ শুরু করা, জনতা টাওয়ারের কানেক্টিং স্টার্ট আপ ও ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ১৫ তলা মাল্টি টেনেন্ট ভবন ও ডরমিটরি ভবনের যথাক্রমে ১০ তলা ৯০ শতাংশ ও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া, ১৬২.৮৩ একর জমির উপর সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি স্থাপন কাজ শুরু, ৩১.৬২ একর জমির উপর রাজশাহীতে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি স্থাপন কাজ শুরু, ৭.০৯ একর জমির উপর নাটোরে আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সহ অন্যান্য কার্যাবলীর অগ্রগতির বর্ণনা দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলাম, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার, বেসিসের প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অতিরিক্ত সচিব সুশান্তসহ আরও উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ।