মেইন ম্যেনু

আউটসোর্সিংয়ে সেরা তিন কন্যা

ঘরে বসেই পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করার মধ্যদিয়ে ঘর সামলানো বাংলাদেশী মেয়েদের জন্য নতুন কিছু নয়। সুচি ও কারু শিল্পের পটুত্ব দিয়ে তারা বেশ আগেই স্থানীয় বাজার দখল করেছে। আর প্রযুক্তির কল্যাণে এবার কায়িক শ্রম নয়, মেধার বুননে বিশ্বকর্মী হয়ে উঠছেন। ই-কমার্সের পশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে বদলে দিচ্ছেন জাতীয় অর্থনীতিকে। গত ২ নভেম্বর নারী কোটায় দ্বিতীয় বারের মতো এমনই তিন বিশ্বকর্মীকে বর্ষ সেরা ফ্রিল্যান্সারে সম্মানিত করেলো বেসিস। বিজয়ীরা হলেন- অজন্তা রিজওয়ানা, সন্ধা রায় এবং মুমীতা মিশকাত।

অজন্তা রিজওয়ানা মির্জা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক শেষ করে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে পিআরও হিসেবে জাগো ফাউন্ডেশন এনজিওতে যোগ দেন অজন্তা রিজওয়ানা মির্জা। এসময় মগবাজারের বাসা থেকে ধানমন্ডির অফিসে যেতে প্রতিদিন তাকে পথেই ব্যয় করতে হতো দেড় ঘণ্টারও বেশি। এসময় অফিসের লেখালেখির চেয়ে ব্যবস্থাপনার কাজেই তাকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হতের। এরই মধ্যে কোল জুড়ে আসে ফুট ফুটে মেয়ে। তাই সময় আর কাজ সামাল দিতে গিয়ে আরও বিপাকে পড়েন। অগত্যা বছর দেড়েকের চাকরিকে ছুটিতে পাঠিয়ে ঘরে বসেই কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১২ সালে বর্তমান আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে শুরু করলেও এখন পুরোদস্তুর মৌলিক লেখালেখিতে ডুবে আছেন। এসব কাজের মাঝে ই-বুক, ব্যবসায়িক কনটেন্ট ও অর্টিকাল লেখার কাজে ঝুঁকে পড়েন। অজন্তা বললেন, চাকরি জীবনে কপি রাইটার হিসেবে যোগ দিলেও ধীরে ধীওে আমি হয়ে উঠি ম্যানেজার। একপর্যায়ে চাকরির ওপর বিরক্ত হয়ে উঠি। গেলো দু’বছরে স্বাস্থ্য, রান্নাবান্না, পরিবার, প্যারেন্টিং, সম্পর্ক ইত্যাদি পরামর্শমূলক ৮৫টার মতো ই-বুক লিখেছি। এসব আর্টিকেল ৫ হাজার শব্দ থেকে ২০ হাজারের ওয়ার্ডের মধ্যে। ১০০ শব্দের একটি আর্টিকেল ১ ডলারের বিক্রি করেন বলে জানালেন তিনি। বললেন, এখন এই আয় বেড়ে ৩ ডলার হয়েছে। দিনে ৪-৫ ঘণ্টা কাজ করি। এখন প্রতি মাসে আয় গড়ে ৪৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই লাস ভেগাসের একটি প্রতিষ্ঠান ওয়েব কপি রাইটার হিসেবে কাজ পেয়েছি। কাজ শেষ করতে শিগগিরই ৩ জন টিম মেম্বার হায়্যার করবো।

সন্ধ্যা রায়
২০০৯ সালে ঢাকা সিটি কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ¯স্নাতকে ভর্তি হন নরসিংদীর মেয়ে সন্ধ্যা রায়। সংবাদ পড়ে এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনে ২০১১ সালে আউট সোসিংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। ডাটা এন্ট্রি দিয়ে আউটসোর্সিং শুরু করেন। দ্বিতীয় বর্ষে এসইও ও প্রোগ্রামিং শিখেন এবং কাজ করতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কাজের পরিধি। ২০১২ সালে আপওয়ার্কের মাধ্যমে লোয়্যাট নামের ভারতীয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়েব ম্যানেজমেন্টের কাজ পান। ঘণ্টায় পাঁচ ডলারে কাজ নেন। এখন তার ঘণ্টা প্রতি আয় ১০ ডলার। ছয় মাস পর লয়্যাটে স্থায়ী কাজ পান। তিনি এখন ওই কোম্পানির সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। সন্ধ্যা বলেন, ওই কোম্পানির আমি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজটি করি। সফটওয়্যার গুলো বিলের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সেটা গ্রাহকদের জন্য ছাড় করি। তিনি জানান, আর্থিক টানাপোড়েন নয় কাজ শেখার আগ্রহ থেকে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসেন। এই কাজে তাকে তার স্বামী সুমন সাহা এবং কাজিন সঞ্জিব রায় সহায়তা করছেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে কিছু নতুন কর্মী নেবেন। আগামী বছর কোম্পানি খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মুমীতা মিশকাত
কম্পিউটারের দক্ষতা নয়, যে বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন সেই ফার্মেসি বিষয় নিয়েই আউটসোর্সিং করছেন মুমীতা মিশকাত। বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ইচ্ছে ইচ্ছে হয় ফার্মাসিতে পড়ার। তাই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষে যখন চাকরি খুঁজছিলেন তখন ল্যাবএইডে ফার্মাসিস্ট হিসেবে চাকুরিরত জীবনসঙ্গী এবং গত বছর বেসিস আউটসোর্সি পদক জয়ী মোস্তফা আল ইমরানের পরামর্শে আউটসোসিংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। মুমীতা বলেন, ‘পাস করে বের হয়ে যখন চাকরি খুঁজছি, তখন আমার স্বামীই আমাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা জানায়। তার কাছে জেনেই আমি ওডেস্কে (বর্তমানে আপওয়ার্ক) অ্যাকাউন্ট চালু করি। সেটা ২০১২ সালের জুন-জুলাইয়ের কথা। পার্সোনাল অ্যাসিটেন্স। অ্যানাটোমি বিষয়ক একটি বইয়ের কনটেন্টকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করি। সফটওয়্যার ইনফরমেশন ডেভেলপমেন্ট, ডক্যুমেন্টেশন, মেডিক্যাল রিসার্চ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ডাটাবেজ ডেভেলপমেন্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ টাস্ক করি। শুরুতে ঘন্টা প্রতি ১ ডলার চুক্তিতে কাজ করলেও এখন আয় উন্নীত হয়েছে ১৭ ডলারে। গড়ে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার মতো। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োনিক ফিজিশিয়ান , কানাডার জ্যাগ গ্রুপ, অস্ট্রেলিয়ার ইভোলিউশন একুয়াটিক্স ফার্মা এবং যুক্তরাজ্যের ফার্মা ইনফো ডটনেটের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন।

লেখক:Imdadul Haque