মেইন ম্যেনু

আওয়ামীলীগের দাপটে কোনঠাসা বিদ্রোহীরা

মোঃ শামীম আখতার, উপজেলা প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর)॥ রংপুরের মিঠাপুকুরে ৪র্থ ধাপে ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। পক্ষান্তরে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন।

৭ মে যেসব ইউনিয়নে নির্বাচন হবে সেগুলো হলো-খোড়াগাছ, রানীপুকুর, ভাংনী, বালারহাট, চেংমারী, ময়েনপুর, বালুয়ামাসিমপুর, বড়বালা, মিলনপুর ও গোপালপুর। খোড়াগাছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। এই ইউনিয়নে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নুর আলম প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বারী, বিএনপি’র মো. জাহিদসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রানীপুকুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাঙা। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, দলটির নেতা মোজাহিদুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি থেকে সিদ্দিক হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ভাংনী ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণায় শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল হাসান। বিদ্রাহী প্রার্থী মাহবুবার রহমান কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইউনিয়নটিতে। এখানে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কোন প্রার্থী দিতে পারেনি। বালারহাটে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, বিএনপি’র আতিয়ার রহমানসহ ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। চেংমারী ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা আলহাজ্ব রেজাউল কবীর টুটুল প্রচার-প্রচারণায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদুল আলম রাসেদও ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হয়েছেন মাজাহারুল ইসলাম মিলন, জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আলাউদ্দিন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ময়েনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম মন্ডল নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন আক্তারুজ্জামান। এখানে বিএনপি’র কোন প্রার্থী নেই। স্বতন্ত্রসহ মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বালুয়া মাসিমপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ময়নুল হক, দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব হোসেন। বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনুর রশীদ। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এখানে। বড়বালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহেব মিয়া সরকার বেশ শক্ত অবস্থানে আছেন। ইউনিয়নটিতে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম রব্বানী কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন মোস্তাফিজার রহমান। বিএনপি থেকে কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন রোকসানা বেগম, মোট ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। মিলনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হালিম চৌধুরী, বাসদের আব্দুল আলিম, বিএনপি’র সবুজ মিয়া। জাপা প্রার্থী দেয়নি। এখানে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ফেরদৌসী বেগম। মোট প্রার্থী ৫জন। গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আমিরুল। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল খালেক, স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নাছরিন আক্তার, তাঁর স্বামী হারুন অর রশীদ তালুকদারও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামীম, ইসলামী আন্দোলনের আকবর আলী শাহ সহ ৯ জন ইউনিয়নটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দলটির বিদ্রোহীসহ অন্যরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। এর আগে ৩য় ধাপের নির্বাচনে মিঠাপুকুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সব ক’টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একারণে, ৭ মে’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অবশিষ্ট ১০টিতে জয়ী হবে-এমনটা মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তাই অন্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় অনেকটা নিষ্প্রভ হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলেছেন, জনগণ এখন বুঝতে শিখেছেন। তারা এলাকার উন্নয়নে নৌকায় ভোট দিচ্ছেন। এসব ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী ৩০ জন এবং সাধারন সদস্য প্রার্থী ৯০ জন।

চতুর্থ ধাপে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারই বেশি, অর্থাৎ পুরুষ ভোটার ৯০ হাজার ২৪৯ জন এবং নারী ভোটার ৯৩ হাজার ১৮৭জন। ভোট কেন্দ্র ৯২টি। বুথ সংখ্যা ৫০৯টি।