মেইন ম্যেনু

আখাউড়া-আগরতলা রেল: ৫৮০ কোটি টাকা মঞ্জুর ভারতের

আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের ত্রিপুরার অংশে পাঁচ কিলোমিটার কাজের জন্য ৫৮০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে ভারত সরকারের ডোনার মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের মাঝামাঝি ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ অংশে গঙ্গাসাগর স্টেশন থেকে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় অর্থ দেবে, তা আগেই নির্ধারণ করা আছে। সব মিলে এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ভারত রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এ রেললাইনে ট্রেন চলবে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের উচ্চপর্যায়ের যৌথ প্রতিনিধিদলের সফরের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে রেললাইনের সংযোগগুলো (অ্যালাইনমেন্ট)। ত্রিপুরার দিকের লাইনটি আগরতলা স্টেশন থেকে সিদ্ধিআশ্রম শ্মশান হয়ে সোজাসুজি চলে আসবে রাজ্যের চারিপাড়া-নিশ্চিন্তপুর। এই নিশ্চিন্তপুরই হবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত স্টেশন। এরপর নিশ্চিন্তপুর থেকে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে নতুন ৫ কিলোমিটার রেললাইন। এ রেলপথের জন্য বাংলাদেশের স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সূত্রে। আর বাকি পাঁচ কিলোমিটার রেলপথ হবে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন থেকে আখাউড়া জংশন স্টেশন পর্যন্ত। বর্তমানে থাকা রেললাইনের পাশ দিয়ে তৈরি হবে নতুন লাইন।

রেলসূত্র মতে, ত্রিপুরা অংশের আগরতলা রেলস্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার লাইন মাটির ওপর দিয়ে বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে। এতে জমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচ পড়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি। পরে সিদ্ধান্ত হয় ওই অংশের ৩.৭ কিলোমিটার লাইন উড়ালপুলের মতো ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে জমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচ হবে মাত্র ৯৭ কোটি টাকা। উড়ালপুলের নিচ দিয়ে হবে ডাবল লেন সড়ক। নিশ্চিন্তপুর স্টেশন থেকে এই পথটি সিদ্ধিআশ্রম শ্মশানলাগোয়া আগরতলা-সাব্রুম জাতীয় সড়কের সঙ্গে মিলবে। বাকি ১.৩ কিলোমিটার রেললাইন মাটির ওপর স্থাপন করা হবে।

ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত অর্থ সরবরাহের জন্য। অবশেষে আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের ত্রিপুরা অংশের ৫ কিলোমিটার কাজের জন্য ৫৮০ কোটি টাকা অর্থ মঞ্জুর করে ভারত ডোনার মন্ত্রণালয়। রেললাইন নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ, উড়াললাইনের নিচে ডবল লেন সড়কসহ যাবতীয় কাজের জন্য এই টাকা মঞ্জুর করা হয়। ভারত রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এই আখাউড়া-আগরতলা রেললাইনে ট্রেন চালু হবে।