মেইন ম্যেনু

গুলশান হামলার আরেক মাস্টারমাইন্ড

আগস্টেই ‘দেখা গেছে’ সেই মারজানকে

গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলায় মূল হোতা বলে সন্দেহভাজন মূল হোতা নুরুল ইসলাম মারজানকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তার বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগের ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, মারজান দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে।

তবে একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই সন্দেহভাজন এই জঙ্গি নেতাকে দেখা গেছে। তবে এই প্রত্যক্ষদর্শীরা জঙ্গিদের হামলার শিকার হওয়ার ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা যখন দেখেছেন তখন মারজান একাই ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন মারজান। ক্যাম্পাসে তিনি ফাহাদ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বর্ষের ছয়টি কোর্সের পরীক্ষা দিলেও বাকি পরীক্ষায় আর অংশ নেননি মারজান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মারজান আরবি বিভাগে বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরপর থেকেই সে অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী সে এখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেই।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছয় শিক্ষার্থীর তালিকায় মারজানের নাম নেই। এর কারণ জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘বিভাগের সভাপতি দুর্ঘটনাজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় হয়তো তালিকায় তার নাম উঠেনি। এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকা হালনাগাদ করা হবে বলে।’

মারজানের চট্টগ্রাম আসার খবর জেনেছে পুলিশও

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামানও জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন এই জঙ্গির চট্টগ্রাম ঘুরে যাওয়ার তথ্য তারাও পেয়েছেন। তবে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন কি না, গেলে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সে বিষয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কর্মকর্তা।

কামরুজ্জামান বলেন, মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেই সূত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার যোগাযোগ থাকতেই পারে। তার সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সহযোগীও থাকতে পারে। সবকিছু মাথায় রেখেই পুলিশ কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জানিয়েছেন, মারজান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের কাছে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী এই তরুণ জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের সাথী ছিলেন। এই ছাত্র সংগঠনের তৃতীয় ধাপের পদ এটি। সংগঠনের নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারলেই এই পদ পাওয়া যায়। শিবিরে সাথীর পরের পদ হচ্ছে সদস্য। এটাই শিবিরের সর্বোচ্চ পদ।

সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় এর আগেও শিবির কর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। মারজানের সঙ্গে শিবিরের আরও কোনো কর্মী এই তৎপরতায় জড়িয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে পুলিশ। গোয়েন্দারা বলছেন, হয়ত এ কারণেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন মারজান।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার সময় মারজান আশেপাশেই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাহিনীটির দাবি তিনি ও তামিম চৌধুরী এই ঘটনার দুই মূল পরিকল্পনাকারী।

গত ১২ আগস্ট ছবি প্রকাশ করে মারজানের বিষয়ে তথ্য জানানোর আহ্বান জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ। দুই দিন পর তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুরে। রজানের স্বজনদের দাবি, এই তরুণের সঙ্গে দুই বছর ধরে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।খবর ঢাকাটাইমসের।