মেইন ম্যেনু

আগামী বছরের মধ্যেই বাংলা চলচ্চিত্রের মৃত্যু ঘটবে : রুবেল

অভিনেতা মাসুম পারভেজ রুবেল ১৯৬৮ সালে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পরপর দুইবার যথাক্রমে ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে জাতীয় কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে “লড়াকু” চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মধ্যে দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন।

ব্ল্যাকবেল্ট রুবেল একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রে রাজত্ব করে গেছেন। অভিনয় করেছেন আড়াই’শোর মতো চলচ্চিত্র। রুবেলের চলচ্চিত্রে এখন আর সেই দাপট নেই। কিন্তু তারপরেও কোন এক মায়ার টানে যেন এফডিসি, বাংলা চলচ্চিত্রের আঙিনা ছাড়তে পারেন না।

সম্প্রতি অভিনেতা রুবেলের সাথে দেখা হলো রাজধানীর প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজে। ব্যস্ত রুবেল হাতে চারটা মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকছেন। বললাম আপনার হাতে চারটা মোবাইল ফোন কেন? ভারী লাগে না? রুবেল হা হা করে হাসলেন। মজার ব্যাপার হলো আমার হাতে চারটা ফোন, এই চারটাই একই কম্পানির এবং প্রতিটাতেই দুইটা করে সিম ব্যবহার করা যায়। প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজের ভেতরে গিয়ে বসলাম। ওদিকে ‘ফাঁসির আসামি’ ছবির মহরত শুরু হবে তার ব্যস্ততা।

রুবেলকে জিজ্ঞেস করলাম বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার কোনো ফিউচার প্ল্যান আছে কি না? এই প্রশ্ন করতেই যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন একসময়ের দাপুটে এই অভিনেতা। বললেন, বাংলা চলচ্চিত্র ওরা ধংস করে ফেলছে। আপনি লিখে নেন এই অবস্থা চলতে থাকলে ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে।

কি অবস্থা? রুবেল বলেন, প্রযোজকেরা কেন বিনিয়োগ করবে বলুন? রুবেল প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন আমার দিকে। তিনিই বলতে শুরু করেন। ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করে ৫লাখ টাকাও এখন উঠে আসে না। হলে ছবি দুইদিন পর নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা ছবি ভাল কি মন্দ সেটা জাজমেন্টের সময়ও নেই, হল থেকে সিন্ডিকেট করে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন বাংলা চলচ্চিত্র একেবারে কোমায় আছে।

কাকে দায়ী করছেন? রুবেল বলেন, একটা চক্র রয়েছে যারা বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কারণে নতুন প্রযোজকেরা আসছেন না। কোমর ভেঙে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রিকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আপনারা সাংবাদিক, সবই জানেন কারা করছে এসব। কিছু অভিনেতা অভিনেত্রীও এসবের সাথে যুক্ত। তাদের একগুঁয়েমিও দায়ী এর জন্য। বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তরিক হতে হবে সবাইকে, সিনিয়র আর্টিস্টকে সম্মান করতে হবে, ডেডিকেশন থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে সবাইকে দ্রুত এক হতে হবে।-কালের কণ্ঠ