মেইন ম্যেনু

আগামী বাজেট হবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার

আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট হবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার।

এ লক্ষ্য পূরনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টায় শেরেবাংলা নগর জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেটের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে মোট ১১টি প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে প্রথম দিন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), ইকনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থমন্ত্রী আগামী ৬ মার্চ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় এনইসি সম্মেলন কক্ষে দেশে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে বাজেট নিয়ে মত বিনিময় করবেন। আগামী ২০ মার্চ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

প্রতি বছরই রাজধানীর বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে মতবিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী। এ বছর চ্যানেল আই আয়োজিত কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট শীর্ষক মতবিনিময় করবেন তিনি। এ বছর ২৭ মার্চ রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি জানবেন তারা কি ধরনের বাজেট চান।

সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে দু দফায় প্রাক-বাজেট আলোচনায় মিলিত হবেন মুহিত। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় ৪ মে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা হবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ইকনমিক রিপোর্টার্সদের সংগঠন ইকনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা হবে ৩ এপ্রিল।

জাতীয় সংসদের অর্থমন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে সচিবালয়ে ৭ এপ্রিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে দু’দফায় মতবিনিময় হবে। প্রথম দফায় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় এবং দ্বিতীয় দফায় ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়।

প্রতি বছরের মত এবারও প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি ঘটাবেন। আগামী ৭ মে সকাল ১০টায় প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থমন্ত্রী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে বেশ কিছু চমক থাকবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট হবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার।

নতুন চমক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। বিশেষ করে বড় বড় প্রকল্পের জন্য আলাদা ক্যাপিটাল বাজেট দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রাপ্ত যে সব প্রকল্প নেওয়া হয় সেগুলোকে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে পরিগনিত হয়। আর সেভাবেই বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থছাড় নিয়ে নানা জলিতা দেখা দেয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাধা প্রাপ্ত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যে কোন ধরনের জটিলতা দূর করে বড় প্রকল্পগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ক্যাপিটাল বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে দেশের সার্বিক অবস্থা পাল্টে যাবে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিসহ সার্বিক অবস্থায় ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন আসবে। আগামী কয়েকটি বছর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বকে অনুধাবন করেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুহিত বলেন, আলাদা ক্যাপিটাল বাজেট প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়নের গতিকে ত্বরান্বিত করা। বর্তমানে বাজেট বাস্তবায়নে যেসব দূর্বলতা রয়েছে বিশেষ করে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতার ক্ষেত্রে ঘাটতি অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও এখনো এই জায়গাটিতে আমাদের দূর্বলতা রয়েছে। এ অবস্থায় বড় প্রকল্পগুলোর ওপর আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ক্যাপিটাল বাজেট থাকবে।

সম্প্রতি আগামী তিন অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল অবদুল মুহিত। এর মধ্যে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, ২০১৭-২০১৮ জন্য চার লাখ ১৫ হাজার কোটি এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী তিন অর্থবছরের বাজেট যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ২০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর চিন্তা করছেন তিনি।