মেইন ম্যেনু

আগামী ৫০ হতে ১০০ বছরের মাঝে কেমন হবে আধুনিক ঘরদোর?

স্বয়ংক্রিয় বাড়ি শুধু একটি নতুন শব্দই না এটি ভবিষ্যতের বাস্তবতা। সম্প্রতি অ্যাপল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেনসে কিছু হোমকিট-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। এই বছরের শুরুতেই গুগল ৩.২ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে হোম অটোমেশন কোম্পানী নেস্ট ল্যাব-এর জন্য যারা গৃহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। ভবিষ্যতের অর্থাৎ আগামী ৫০-১০০ বছরের মধ্যে বাড়ি গুলো কেমন হতে পারে জেনে নেই আসুন।

১। যে কোন সময়, যে কোন জায়গা থেকেই আপনার বাড়িকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন
আপনি বাড়িতে ঢুকেই গোসল করতে চান? আপনি কাজে থাকতেই আপনার বাড়ির ওয়াটার হিটারকে প্রোগ্রাম করতে পারবেন তাপ দেয়া শুরু করার জন্য। আপনার মাইক্রোওয়েভকেও প্রি হিট হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন বাড়িতে ফেরার পথেই। মোদ্দাকথা হচ্ছে আপনার বাড়ির ডিভাইস গুলোকে অন করার জন্য আপনাকে বাড়িতে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন পড়বেনা। অবশ্যই এই স্মার্ট ডিভাইস গুলোকে কিনে নিতে হবে আপনার।

২। ক্ষমা করবেন, বাড়ি আমাকে ডাকছে
বর্তমানে আমাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পরে মনে যে প্রশ্ন গুলো আসে তা হল- দরজায় ঠিকমত তালা লাগিয়েছিতো? লাইট এর সুইচ বন্ধ করেছিতো? গ্যাসের চুলাটা নিভিয়ে এসেছিতো? কিন্তু ভবিষ্যতের বাড়িতে আপনার সাথে সাথে আপনার বাড়িও এই বিষয়গুলো চেক করবে। আপনি খুব দ্রুত জানতে পারবেন যখন আপনার স্মোক ডিটেক্টর রিং বেজে উঠবে অথবা আপনার দরজাটি খোলা রয়ে গেছে কিনা।

৩। আপনার জীবনধারা অনুযায়ী আপনার বাড়িকে পরিবর্তিত করে নিন
প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব রুটিন থাকে যেমন- জেগে উঠা, জগিং করা, গোসল করা, কফি বানানো ইত্যাদি। এই ধাপগুলোর প্রতিটাতেই প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতের বাড়ীগুলোতে এই কাজ গুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য প্রোগ্রাম করা থাকবে যাতে আপনার সকালটা ঝঞ্ঝাট মুক্ত হয়। আপনি যদি ভোর ৬ টায় ঘুম থেকে উঠেন তাহলে হয়তো বাহিরে অন্ধকার থাকবে তাই লাইটের প্রয়োজন হতে পারে তাই লাইট জলে উঠবে আবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বন্ধও হয়ে যাবে।

৪। বাড়ির সাথে কথা বলাটাও অদ্ভুত হবেনা
ভবিষ্যতের বাড়িগুলোতে বাড়ির সাথে কথা বলতে পারবেন। এমনকি লাইটের সাথেও। কে বলতে পারে। ভবিষ্যতে হয়তো বাড়ি আপনাকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করতে পারবে এবং হয়তো আপনাকে দিক নির্দেশনাও দিতে পারে।

৫। মিট হাউস
মিশেল জোয়াকিমের নেতৃত্বে সংগঠিত এক গবেষণায় যানা যায় যে, মানুষের হাতের জৈব গঠন যেমন- মাংস, হাড় ও ত্বক অনন্য। জোয়াকিমের মতে স্ফিঙ্কটর মাসেল জানালা ও দেয়াল খোলা বা বন্ধ করতে সক্ষম। ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে জৈব ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

৬। সবুজের ছোঁয়া
ডিজাইনার অঙ্কিত কুমার বাড়ির ভিতরে এডপিডিস্ট্রা রাখার স্থান নির্ধারণ করছেন এবং ঘাস দিয়ে ইন্টেরিওর করার চিন্তা ভাবনা করছেন। ব্যয়ামের সময় যাতে উড়ার স্বাদ পেতে পারেন এমন যন্ত্র থাকতে পারে আপনার ভবিষ্যতের বাড়ির জিমে।

সব প্রযুক্তিরই কিছু বিপদজনক দিক থাকে আর তা হল- গোপনীয়তা রক্ষা করার সমস্যা হতে পারে। হাঁ এই চিন্তাটা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। কারণ বাড়িটি যদি হ্যাক হয়ে যায় তখন কি হবে? হ্যাকার আপনার ঘরের দরজা বা গ্যারেজের দরজার লক খুলে ফেলতে পারবে এবং আপনার পুরো বাড়িটি তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারবে। যাই হোক এরও একটি সমাধান নিশ্চয়ই বিজ্ঞানীরা বের করে ফেলবেন যাতে ভবিষ্যতে বাড়িতে আপনি প্রশান্তিতে থাকতে পারেন।