মেইন ম্যেনু

আগুনে পুড়ছে বসুন্ধরা, ওরা সেলফি তুলতে ব্যস্ত

ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে রাজধানীর বহুল জনপ্রিয় ও ব্যস্ত শপিং মল বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। চারদিকে পোড়া গন্ধ। স্বজনরা ভেতরে আটকা পড়ে আছেন কিনা তা নিয়েও অনেকেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু এক শ্রেণির লোক আছেন তারা শুধু ‘মজা’ লুটতে এসেছেন।

অনেকে বিষয়টিকে মজা হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হাজির। কেউ কেউ আবার বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছেন। তুলছেন সেলফি, কেউ কেউ করছেন ভিডিও। অথচ বড় ওই ভবনের কাঁচ ভেঙে যে কোনো সময় তাদের উপর পড়তে পারে। কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে যেতে রাজি নয় তারা।

প্রসঙ্গত, রোববার বেলা ১১টার পর বসুন্ধরা সিটিতে ওই অগিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথমে ৬ তলায় জুতার দোকানে আগুনের সূত্রপাত হলেও বেলা ৩টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন ৮ তলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই তলায় খাবারের দোকান থাকায় অনেক গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। তাই যে কোনো সময় ঘটনাটি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের এককর্মী জানান।

দুপুরে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বসুন্ধরা সিটি ঘিরে উৎসুক জনতার প্রচণ্ড ভিড়। ভবনটির সামনের সড়ক প্রথমে খোলা থাকলেও পরে বন্ধ করে দেয়া হয়। সামনের সব দোকানগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু উৎসুক জনতার ঢল থামাতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ও বসুন্ধরার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা।

তেজগাঁ কলেজের ছাত্র মবিন রহমান ও তার বন্ধু ঘটনার খবর শুনে সেলফি স্টিক নিয়ে সেখানে হাজির। তারা আপন মনে সেলফি তুলছিলেন। তারা জানায়, ঘটনার খবর শুনেই চলে এসেছেন মোবাইল ফোন নিয়ে। এরপর ছবি তুলে ফেসবুকে দিবেন।

হেলাল নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবি জানান, তার অফিস শাহবাগে। টিভিতে আগুন লাগার ঘটনা শুনে চলে এসেছেন সেখানে। ছবি তুলে ইতোমধ্যে ফেসবুকেও আপলোড করেছেন। এরপর থেকেই অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে ফোন করে জানতে চাচ্ছেন।

এদিকে সেখানে বেসরকারি চ্যানেল সময় টিভি ঘটনাটি সরাসরি প্রচার করছিল। ধারাভাষ্যকারের পেছনে অনেকে হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে বাড়িতে ফোন করে বলছিলেন, এই সময় টিভি খুল। আমাকে দেখাচ্ছে।

আবার আরেকজন বলছেন, কি দেখা যাচ্ছে না। এই যে এবার দেখ। এবার দেখা যাচ্ছে?

তাদের মোবাইলে কথা বলার শব্দে ধারাভাষ্যকারের কথা বলতে অসুবিধা হলেও তাতে ভ্রক্ষেপ ছিল না কারো।