মেইন ম্যেনু

আঙুল দিয়ে স্ত্রীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা

এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ তুলতে হবে। তাই বারবার স্ত্রীকে রাজি করানোর চেষ্টা। কিন্তু কোনোভাবেই স্ত্রীকে রাজি করতে না পারায় আঙুল দিয়ে ঘুতিয়ে স্ত্রীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে এক পাষণ্ড স্বামী।

রোববার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকার বৈরাগীপাড়ায় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে নুরেসা বিবি নামে ওই গৃহবধূকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মা নুরেদা খাতুন শাহ মখদুম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

নুরেসার পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, পবা উপজেলার ভুগরইল এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে নুরেসা বিবির সঙ্গে একই উপজেলার বৈরাগীপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান আছে। স্বামীর চাপের মুখে এর আগেও তিনি এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন। সেই ঋণের টাকা সিরাজুল ইসলাম পরিশোধ করেননি। ওই টাকা নুরেসার মা-বাবা শোধ করেছিলো।

স্বামী সিরাজুল ইসলাম আবারো দুই লাখ টাকা এনজিও থেকে তুলে তাকে দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে লাঠি দিয়ে স্বামী সিরাজুল ইসলাম তার মাথায় আঘাত করেন। এরপরে নুরেসা মেঝেতে পড়ে গেলে সিরাজুল আঙুল দিয়ে ঘুতিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম ছুরি খুঁজতে শুরু করলে সেই ফাঁকে নুরেসা হাতের আন্দাজে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে পালিয়ে আসেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন।

রামেক হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ইউসুফ আলী জানান, নুরেসার চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুস্থতার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে সময় লাগবে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা নুরেদা খাতুন শাহ মখদুম থানায় অভিযোগ করেছেন। এতে সিরাজুলকে প্রধান আসামি ও তার ভাই ফজলুর রহমানকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।

শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে আসামিরা পলাতক। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।