মেইন ম্যেনু

আজও মুস্তাফিজ ঝলক

মুস্তাফিজ মাঠে নামবেন আর একটা শো হবে না, তা যেন কল্পনাই করা যায় না। মুস্তাফিজুর রহমান আসলে এমনই এক ক্রিকেটার, যিনি মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকেন লাখো-কোটি ভক্ত। প্রতিপক্ষের মাঠেও বিরোধীদের সমর্থন আদায় করে নিতে পারেন তিনি। আজও যেমন রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে আদায় করে নিতে পেরেছেন।

আইপিএলে নতুন বলের চেয়ে মুস্তাফিজ একটু পুরনো বলে বেশ কার্যকরী- এটা বেশ প্রমাণ করেছেন। তবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা সম্ভবত প্রমাদ গুনেন, মুস্তাফিজ বোলিংয়ে আসার পর। কোনমতে ওভারের ৬টা বল পার করতে পারলেই বেঁচে যায়।

কিন্তু খেলাটা তো টি-টোয়েন্টি। এখানে প্রতিটি বল মহা মূল্যবান। সুতরাং খেলতে হবেই। যদিও মুস্তাফিজের বলে রান তোলা কতটা পরিশ্রমের কাজ, সেটা ভুক্তভোগি ব্যাটসম্যান মাত্রই ভালো বুঝতে পারেন। অ্যারোন ফিঞ্চ, ডোয়াইন ব্র্যাভো, দিনেশ কার্তিক এবং রবীন্দ্র জাদেজা যেটা আজ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

৪ ওভার বল করেছেন। ডট বল দিয়েছেন ১৪টি। বাকি ১০ বলে রান দিয়েছেন ১৭টি। উইকেট নিয়েছেন ২টি। ভাগ্য পক্ষে ছিল না বলে উইকেট ৩টি হলো না। ৬ষ্ঠ ওভারে এসে নিজের প্রথম বলেই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। কিন্তু তার বলে ওঠা ক্যাচটা হাতে নিয়ে তালুবন্দী করতে পারলেন না সদ্য অবসরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।

তবে একই ওভারের ৪র্থ বলে দিনেশ কার্তিকের অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরলেন কেন উইলিয়ামসন। প্রথম ওভারে ১ উইকেটের সঙ্গে দিলেন মাত্র ২ রান। ৪টিই ডট বল। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসেন দলীয় ১৪তম ওভারে। এবার রান দিলেন মাত্র ১টি। ৫টিই ডট বল।

নিজের তৃতীয় ওভার করলেন দলীয় ১৭তম ওভারে। এ ওভারে ডট দিলেন ২টি। রান দিলেন ৬টি। অ্যারোন ফিঞ্চ ছিলেন বলেই এই রানগুলো এলো। শেষ ওভার করতে এলেন দলের ১৯তম ওভারে। প্রথম বলেই ফিরিয়ে দিলেন বিধ্বংসী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়া রবীন্দ্র জাদেজা। পরের বলও ডট। প্রাভীন কুমার এসে তৃতীয় বলে নিলেন ১ রান।

স্ট্রাইকে চলে আসেন অ্যারোন ফিঞ্চ। যিনি ইতিমধ্যে সেট হয়ে গেছেন উইকেটে। আরও একটি বল দিলেন ডট। পঞ্চম বলে ফিঞ্চ মেরে দিলেন ছক্কা। শেষ বলে দিলেন ১ রান। ৪ ওভার শেষে বোলিং ফিগার দাঁড়াল ৪-০-১৭-২। ইকনোমি রেট ৪.২৫ করে।

মুস্তাফিজের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৬ রানে থমকে যেতে বাধ্য হয়েছে গুজরাট লায়ন্স।