মেইন ম্যেনু

আজও সৃতির পাতায় রয়ে গেছেন, কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি!

নায়ক নয়, ভিলনকে দেখতে সিনেমা হলে যেতেন দর্শকশ্রোতারা। তার সাবলীল কণ্ঠ, দক্ষ অভিনয়ে চোখ ফেরানোর কোন সুযোগ নেই। বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। হয়তো বাস্তব জীবনের একাকীত্বই তাকে সকলের প্রিয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো।

তিনি অভিনয়ের কিংবদন্তী পুরুষ হুমায়ুন ফরীদি। আজ তার ৬৪ তম জন্মদিন। কালজয়ী এই অভিনেতার জন্মদিনে বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা।

১৯৫২ সালের ২৯ মে পৃথিবীর আলোয় নিজেকে বিকশিত করেছিলেন গুণী এই অভিনেতা। বাবা এ.টি এম নুরুল ইসলাম ছিলেন জুরী বোর্ডের কর্মকর্তা।

মা বেগম ফরিদা ইসলাম গৃহিনী। ঢাকার নারিন্দায় জন্ম হলেও বাবার চাকরির সুবাদে মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুরসহ অসংখ্য জেলায় ঘুরতে হয়েছে তাকে।

চার ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। লোক মুখে শোনা যায়, বাবার দ্বিতীয় সন্তানরা একটু বেশী চঞ্চল হয়।

ছোটবেলা থেকেই বেশ দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন হুমায়ুন। এ কারণে তাঁকে ‘পাগলা’, ‘গৌতম’, ‘সম্রাট’ বিভিন্ন নামে ডাকা হতো।

শিক্ষা জীবনের গতিধারায় মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে পাস করে ভর্তি হন চাঁদপুর সরকারি কলেজে।

সেখান থেকে ১৯৭০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন তিনি। ঠিক তখনই যুদ্ধের ডাকে সারা দিয়ে চলে যান দেশকে রক্ষায় ভাগিদার হতে। জয়ের বেশে ফিরলেও ফেরা হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে।

পরবর্তীতে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জনও তার ঝুলিতে জমা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে থাকতেন এ অভিনেতা। সেখানে পড়ার সুবাদেই সান্নিধ্য পান নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের।

তার হাত ধরেই জড়িয়ে পড়েন গ্রুপ থিয়েটারের নাট্যচর্চার সঙ্গে। ছাত্রাবস্থায়ই ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হন। জড়িয়ে যান মঞ্চের সাথে।

এরপর থেকেই তার অভিনয় জীবন শুরু। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন হুমায়ুন ফরীদি।

তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দেশ-বিদেশের কোটি ভক্তের হৃদয়। হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মতো নিজের মোহের জালে আটকে রেখেছেন সবাইকে। আর তাই তো তার মৃত্যুর পরও কেউ সেই জাল ভেদ করে বের হতে পারছে না।

২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফাগুনের আগুনে বিষাদের কালো আভা ছড়িয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অভিনয় শিল্পের অনন্য এই কারিগর।

তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন হারিয়েছে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রকে। আজও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তিনি আর নেই। পর্দায় তার ঝলমলে হাসি দেখলে মনে হয় এই বুঝি পাশেই আছেন তিনি।

তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। আজ তার জন্মদিনে খুব জানতে ইচ্ছে করছে, সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আকাশের ওপারে কেমন আছেন সকলের প্রিয় মুখ হুমায়ুন ফরীদি?