মেইন ম্যেনু

আজব কাণ্ড! সেলফি তুলতে গিয়ে হাজার ডলার খরচ

চিন্তা করে দেখুন তো, আপনি যতগুলো সেলফি তুলছেন তার প্রত্যেকটা দেখে মনে হচ্ছে আপনার চেহারা একেবারে নিখুঁত হয়ে গেছে। অনেক প্লাস্টিক সার্জারির পর যেমন নিখুঁত হয় চেহারা। সেলফির আপনি ঠিক যেন সার্জারি সংস্করণ।

চীনের অসংখ্য মানুষ এখন ১০০০ ডলার নিয়ে বাজারে ছুটছে এমনই এক সেলফি ক্যামেরা কিনতে। এই ক্যামেরায় তোলা ছবি আপনার প্লাস্টিক সার্জারি করা চেহারা দেখিয়ে দেবে।

ক্যামেরানি আপনার মোটা চেহারা পাতলা করে দিতে পারে, চোখ দুটো বড় বানাতে পারে, ত্বক ফর্সা করে দেবে এবং যাবতীয় বলিরেখা উধাও করে দেবে।

ক্যাসিও ক্যামেরা বর্তমানে সেলফির জগতে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। সোশাল মিডিয়া এসব ছবি দেওয়ার হিড়িক পড়েছে চীনে। প্রকৃত অর্থে, এই ক্যামেরায় কারো পরিবর্তিত চেহারা ফুটে ওঠে।

ক্যামেরাটির নাম এক্সিলিম টিআর। কিন্তু চীনে তা ‘জিপাই শেনকি’ নামেই বেশি পরিচিত। জিপাই শেনকি-এর অর্থ ‘সেলফি তুলতে ঐশ্বরিক যন্ত্র’।

ক্যাসিওর এই জাদুকরী ক্যামেরাটি কেবলমাত্র এশিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ‘ইবে’-এর মতো অনলাইন স্টোরেও মিলছে। মন হচ্ছে সেলফির সংস্কৃতি প্লাস্টিক সার্জারির দিকে মোড় নিচ্ছে।

লন্ডনের প্লাস্টিক সার্জন ড. অ্যালেক্স কারিডিস জানান, মেয়েরা বিশের কোঠায়া প্লাস্টিক সার্জারির কাজটি সেরে ফেলেন। এই বয়সী মেয়েরা সেলিব্রিটিদের বোটক্স এবং ফিলারস-এর কথা শুনে বড় হয়েছে। কাজেই প্লাস্টিক সার্জারি তাদের কাছে অত্যাবশ্যকীয় বলেই মনে হয়। মসৃণ ত্বক বা পুষ্ট ঠোঁট পেতে তারা অহরহ প্লাস্টিক সার্জারি করে থাকেন।

সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে এসব বিষয় আরো ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের মেয়েদের কাছে ইন্সটাগ্রাম জীবনের একটা অংশ। নিজেকে কেমন দেখতে চান এবং কি কি করেছেন তার সবই তারা ইন্সটাগ্রামে তুলে আনেন।

কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে খুব কমই আছেন যাদের প্লাস্টিক সার্জারি করাটা হয়তো জরুরি হয়ে থাকে। এ কথা জানান দ্য ক্র্যানলে ক্লানিকের ডার্মাটোলজিস্ট ড. নিক লোই।

নিজেকে সুন্দর দেখানোর পেছনে বড় ধরনের চাপ আসে সোশাল মিডিয়ার কারণে। কম বয়সী মেয়েদের এমন উপার্জন নেই যে তারা প্লাস্টিক সার্জারির পেছনে পয়সা ঢালবে। তাই ক্যাসিও’র ক্যামেরাটি তাদের কাছে একটা জাদুর বাক্সে পরিণত হয়েছে। সূত্র : টেলিগ্রাফ