মেইন ম্যেনু

আজাদ-টিপুকে নিয়ে বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা!

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা নেতারা বারবার দলটির কর্মীদেরই হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হচ্ছেন। দলটির একাংশের নেতারা যেমন শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তেমনি তৃণমূলের নেতাদেরও তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে দলের হাইকমান্ডকে। এমনই এক দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আবারো নতুন করে সাংগঠনিক কোন্দল দেখা দিয়েছে দেশের অন্যতম বড় এই দলটিতে।

জানা গেছে, দলের ভেতরের নতুন এই কোন্দলের অন্যতম কারণ- দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবদুস সালাম আজাদ ও তাইফুল ইসলাম টিপুর দায়িত্ব প্রাপ্তি। দলের কমিটির শূণ্যস্থান পূরণ করতে গত ১৯ মে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর কিছুদিন পরেই বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনিত করা হয় তাইফুল ইসলাম টিপুকে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একক সিদ্ধান্তেই তাদেরকে এ দু’টি পদে মনোনীত করা হয়। তবে বেগম জিয়ার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি বলে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করেন।

শীর্ষ নেতাদের বশে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত দু’জন নেতার দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির তৃণমূলসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগে বিএনপির অনেক নেতা ইন্তেকাল করলেও ওই পদগুলোতে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। কিন্তু নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ইন্তেকাল করার পর অনেকটা তড়িঘড়ি করেই তার শূন্যপদে আজাদকে নিয়োগ দেয়া হয়। এতে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনসহ তৃণমূলে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইভাবে প্রশ্ন রয়েছে টিপুর যোগ্যতা নিয়েও।

তবে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর জায়গায় আব্দুস সালাম আজাদকে দেয়া হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলছেন আজাদ পিন্টুর স্থান পূরণ করতে পারবেন না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আজাদ কেন পারবেন না, অসুবিধাটা কোথায়? আমি মনে করি আজাদ অবশ্যই পিন্টুর শূন্য স্থান পূরণ করতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে তাইফুল ইসলাম টিপুর ওপর হামলা করে দৃর্বৃত্তরা। এর আগে গত ১৪ জুন দলের আবদুস সালামের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। দুটি ঘটনাই সংঘটিত হয় নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায়। বিএনপির নেতাদের দাবি, এই দুটি ঘটনা বিএনপির নেতাকর্মীরাই করেছেন। তবে এই দুটি হামলাই দলের একটি বিদ্রোহ অংশ করেছে বলে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করার প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর তাইফুল ইসলাম টিপু বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় ছিল। আমার ছোট ভাইদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। আর এতে আমার শরীরেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।’

এই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় অবশ্যই বিএনপিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দলের ভেতর কোনো বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না। তাই এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপনেকই নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আব্দুস সালাম আজাদের ওপর হামলার পরপরই আমরা এর নিন্দা জানিয়েছিলাম। আর দোষীদের চিহ্নিত করতে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি তাদের তদন্তের প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে। তবে এর কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি।’

রিপন আরো বলেন, ‘টিপুর ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

আজাদের ওপর হামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করার পর আমাদের যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল সেই সময়ের মধ্যেই আমরা তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

আজাদের ওপর হামলাকারীদের সনাক্ত করতে পেরেছেন কি না- এই প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, যিনি হামলার স্বীকার হয়েছেন তিনিই স্বয়ং বলেছেন কাউকে চিন্তে পারেন নি। তাই কাউকেই সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।