মেইন ম্যেনু

“আজান ফরজ নয়, নামাজ ফরজ”

মাগরিবের নামাজের আজানের সময় বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এসময় উপস্থিত একজন শ্রোতা বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনলে ক্ষেপে যান ওই মন্ত্রী এবং বলেন, “আজান ফরজ নয়, নামাজ ফরজ, আজান শোনা লাগবে না”।’

তার এ বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন উপস্থিত শ্রোতারা।

সোমবার সন্ধ্যায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ’ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়াম সংলগ্ন ইবাদত খানা এবং অডিটোরিয়ামের মধ্যে কোন দেয়াল নেই। মাগরিবের নামাজের সময় হওয়ার সাথে সাথে সেখানে মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছিলেন। আর ওই সময়ই অডিটোরিয়ামে বক্তব্য করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

আজান শোনার সাথে সাথে মঞ্চের সামনের সারিতে বসা একজন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মন্ত্রী এদিকে কর্ণপাত না করে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি আবার বলেন যে, আজান হচ্ছে। এবার মন্ত্রী রেগে বলেন ‘আজান ফরজ নয়, নামাজ ফরজ। আজান শোনা লাগবেনা। আমাদের দেশের মানুষের এটাই সমস্যা। আজানের একজন উত্তর দিলে চলবে। শোনা লাগবেনা।’ এসময় মঞ্চের সামনে বসা একজনকে বললেন ‘আপনি আজানের উত্তর দিন।’ এই বলে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে মঞ্চে থাকা বেশ কয়েকজন শ্রোতাকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা বলেন, ‘যেহেতু এখানে অডিটোরিয়াম এবং নামাজ ঘরের মাঝে কোন দেয়াল নেই, সেহেতু একটুখানি সময় নিজের বক্তব্য বন্ধ রাখলেই ভালো হতো।’

সংগঠনের সভাপতি ড. শামসুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, বাহলুল মজনুন চুন্নু প্রমুখ।