মেইন ম্যেনু

আজ দশমবারের মতো বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

দশমবারের মতো বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেই ২০০৯ সালে প্রায় সোয়া লাখ কোটি দিয়ে শুরু, ৮৩ বছর বয়সে এবার টানা ৮ বারের মতো বাজেট দেয়ার কাজ গুছিয়ে নির্ভার অর্থমন্ত্রী। এবার বাজেট এর আকার দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯’শ ১০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেট বক্তৃতায় মধ্য আয়ের দেশের কাতারে শামিল হওয়া, সবার জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পরিকল্পনাও জানাবেন দেশবাসীকে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিলো মোটে ৭’শ ৮৬ কোটি টাকা। ৪৫ বছর পর এসে সেই আকার ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯’শ ১০ কোটি। তাজউদ্দিন আহমেদের ওই বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিলো ১’শ ৬৬ কোটি টাকা, আর আগামী অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪২ হাজার ৫’শ ৪২ কোটি।

প্রথম বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ছিলো ৩’শ ১৮ কোটি টাকা, এবার উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি। ৩ বার বাজেট দেয়া জিয়াউর রহমানের শেষ বাজেটও ছিলো আড়াই হাজার কোটি টাকার মধ্যে। ৪ হাজার ১’শ কোটি দিয়ে শুরু করে সবচে বেশি, ১২ বার বাজেট দেয়া অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের শেষ বাজেট অবশ্য ছিলো ৭০ হাজার কোটির।

মাঝে আওয়ামী লীগ সরকারের ৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াও বাজেটের আকার বাড়ানোর ব্যাপারে অতো উদার ছিলেন না। তত্ত্ববধায়ক সরকারের ৩ বছরের শাসনামলে ড. এ বি মির্জ্জা মো: আজিজুল ইসলামের বাজেটও ছিলো ১ লাখ কোটির মধ্যে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২য় মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য মেয়াদের শেষ বছরে ছাড়িয়ে যেতে চান ৫ লাখ কোটি।

৩ লাখ ৪১ হাজার কোটির মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় এডিপি’র আকার ১ লাখ ২৩ হাজার ২’শ ৬৪ কোটি টাকা, অনুন্নয়ন ব্যয় ও অন্যান্য নামে রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭’শ ৪২ কোটি টাকা।

৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে এনবিআর-নন এনবিআর সব মিলিয়ে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫’শ ৫২ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে ঘাটতি থাকার কথা ৯৭ হাজার ২’শ ৫৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।

ভর্তুকি বাবদ ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ হাজার ৯’শ ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কৃষিতে যাবে ৯ হাজার কোটি। বাজেটের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, দেশের মধ্যে মোট সম্পদের পরিমাণ জিডিপির আকার হতে পারে ১৯ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা, মাথাপিছু আয় ১৪’শ ৬৬ ডলার থেকে বেড়ে হবে ১৫’শ ৯৬ ডলার।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও সরকারি-বেসরকারী অংশীদারিত্ব পিপিপিতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি’র লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি ৫.৮%।