মেইন ম্যেনু

শহিদদের স্মরণে স্মারক নির্মাণের দাবি 

আজ নাগেশ্বরীর চন্ডিপুর গণহত্যা দিবস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ঃ ২৬/০৫/১৬
আজ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চন্ডিপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন মোজাহিদ ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিনসহ ১৮জন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এই শহিদদের স্মরণে স্থানীয় প্রশাসন বা রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহন করা হয়না কোন অনুষ্ঠান। এই শহিদদের স্মরণে গণকবরে একটি স্মারক নির্মাণের দাবি জানান হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মে পাক বাহিনী ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার দখল নিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন নিয়ে রাতেই ধরলা নদী অতিক্রম করে। পরদিন ২৭ মে ভোর বেলা থেকে ব্যাপকভাবে অক্রমণ শুরু করে। পাকিস্তানীদের আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সুবেদার আরব আলী ও সুবেদার বোরহান এর নেতৃত্বে সেদিন প্রচন্ড লড়াই হয়। লড়াইয়ে পাকিস্তান বাহিনীর ভারী অস্ত্রের ব্যাপক হামলায় মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অপরদিকে ক্যাপ্টেন নওয়াজিস উদ্দিনের নির্দেশে মোজাহিদ ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সার্পোট টিম ধরলা প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য ভূরুঙ্গামারী থেকে ধরলা অভিমূখে অগ্রসর হতে থাকেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তান বাহিনী যে ধরলা নদী অতিক্রম করে নাগেশ^রী অভিমূখে অগ্রসর হচ্ছিল সেটি জানতে পারেনি তমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অগ্রসরমান সার্পোট টিমটি। তারা যখন নাগেশ্বরী পার করে হাসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণে চ-িপুর অতিক্রম করছিলেন তখনই পাকবাহিনীর এমবুসের শিকার হন। এতে বীরমুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন, সিপাহী আবুল কালাম আজাদ, ড্রাইভার রব্বানী, ড্রাইভার আফজাল হোসেন, বাবুর্চি আতিকুর রহমান, আব্দুল বারী, মোজাম্মেল হক, আসাদ আলী, আবুল ড্রাইভার, খয়বর আলী, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব প্রধান, রইচ উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল কাশেম, সেকেন্দার আলী, আব্দুল আলী, এম.আবুল কাশেম, আনছার আলীসহ ১৮ জন ঘটনাস্থলেই শহিদ হন। পরে স্থানীয় জনতা তাদের ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম সড়কের পাশেই সমাহিত করেন।

দীর্ঘসময় অবহেলিত থাকার পর ১৯৯৬ সালে গণকবরটি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যেগে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের নামটি লেখা হয় নাই। সেদিন এই গণহত্যার পর পাকবাহিনী নাগেশ^রীতেও ব্যপক গণহত্যা ও জ¦ালাও পোড়াও করে। পরদিন পাকবাহিনী ভূরুঙ্গামীর দখল নেয়।

দিবসটি উপলক্ষে আজ (শুক্রবার) উত্তরবঙ্গ যাদুঘরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে কুড়িগ্রাম শহরের লিংকন্স ইন উত্তরবঙ্গ যাদুঘরের অস্থায়ী কার্যালয়ে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রতিষ্ঠাতা এড. এস.এম আব্রাহাম লিংকন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা সভাপতি ও উন্নয়ন সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা এস.এম হারুন অর রশীদ লাল, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মঞ্জু প্রমূখ। অনুষ্ঠানে নাগেশ্বরীর হাসনাবাদ ইউনিয়নের চ-িপুরে শহিদদের স্মরণে একটি স্মারক ভার্স্কয তৈরি এবং বীর বিক্রম তমিজ উদ্দিনসহ সকল শহিদের নাম সংরক্ষণের দাবি জানায়।