মেইন ম্যেনু

আজ বিশ্ব বাবা দিবস : জানেন এ দিবসের ইতিহাস কী?

তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া তিনি বাবা। বছরের এই একটি দিনকে প্রিয় সন্তানরা আলাদা করে বেছে নিয়েছেন। আজ রোববার (১৯ জুন) বাবা দিবস। সারা বিশ্বের সন্তানরা পালন করবেন এই দিবস।

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানলার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়…।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের এক অসীম নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়।

এনসাইক্লোপেডিয়া জানাচ্ছে, জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের প্রায় ৭৪টি দেশে বাবা দিবস উদ্যাপিত হয়। তৃতীয় রোববার হিসেবে এ বছর ১৯ জুন উদ্যাপিত হচ্ছে বাবা দিবস। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোর জন্যই এই দিবস। যদিও বাবার প্রতি সন্তানের সে চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তার পরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। যেমনটা মায়ের জন্য করেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাবা দিবসের প্রচলন।ইংরেজিতে ফাদার বা ড্যাড, জার্মানিতে ফ্যাটা, বাংলায় বাবা কিংবা ভারতীয়দের ভাষায় পিতাজি- যে নামেই ডাকুন না কেন পিতার প্রতি সন্তানের ভালবাসা একই প্রকাশ পায়।

জানা যায়, বাবা দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই। ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়। আবার সনোরা স্মাট ডড নামে ওয়াশিংটনে এক নারীর মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে।

যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জায় এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো কথা বলেছিলেন। তার মনে হয়েছিল মায়ের পাশাপাশি বাবাদের নিয়ে কিছু করা দরকার। ডড আবার তাকে বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন বাবা দিসব পালন শুরু করেন।

১৯১৩ সালে আমেরিকার সংসদে বাবা দিবসে ছুটি ঘোষণার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে সে সময় আমেরিকার প্রেসিৃেডন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বাবা দিবসে ছুটি ঘোষণা করেন।

বিশ্বের প্রায় দেশের জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালন করে আসছে। আমাদের দেশে বাবা দিবসের ধারণা খুব পুরানো না হলেও এখন অন্যান্য দিবসের সাথে পালন করা হয়।