মেইন ম্যেনু

আজ বিশ্ব মা দিবস

মা। পৃথিবীর মধুরতম শব্দ। একটি মাত্র অক্ষরের শব্দ ‘মা’, অথচ তাতেই যেন সমস্ত ভালোবাসা, আবেগের সম্মিলন। এ ভুবনে মা থেকে আপন আর কে-ই বা হতে পারে? দুঃখের দরদী আমার জনম দুঃখী মা গর্ভধারিণী মা।

সম্পর্কের বেড়াজাল ছিন্ন করে সবাই দূর পরবাসে মিলতে পারে। চলে যেতে পারে প্রেমাবেগের বন্ধনের প্রিয়সীও। কিন্তু মা’র স্নেহ-ভালোবাসার বন্ধন কখনই ছিন্ন হবার নয়।

তাই তো সাধু জনার কাছে মা-ই গুরু, মা-ই ভজন দেবি। কবি, সাহিত্যিক, ঋষি-মুনি কাছে মা-ই পরমাশ্বর। ‘মাকে ভজলেই ইশ্বর ভজন’ এ গুরুজনের আদি বচন।

আজ বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এ দিবসটি পালন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মা দিবস পালন করার চলছে মহাআয়োজন।

যদিও মাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানানোর কোন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। তবুও মাকে গভীর মমতায় স্মরণ করার দিন আজ।

মাকে ভালোবাসা আর তার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধার বিষয়টি পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো।

যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃ-দিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা।

এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পিত-এর উদ্যোগে রোববার বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ভিআইপি সেমিনার হল নীচ তলায় ‘বিশ্ব মা দিবস ও রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দশ কবিতাকর্মীর আত্মনিবেদন অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সন্তানেরা মাকে কাছে পেতে নানা আনুষ্ঠানিকতাও পালন করবে এ দিন। মায়েরাও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা-আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। এ দিন অনেকেই মায়ের কাছে ছুটে যান অকৃত্রিম ভালোবাসা তাগিদে।

বিশ্ব মা দিবসকে সামনে রেখে মাকে স্মরণ করে নানা আবেগ প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও।