মেইন ম্যেনু

সাক্ষাতে জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকছেন না?

আজ মোদি-খালেদার বৈঠক, প্রাধান্য পাবে নির্বাচন

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ রোববার বিকালে অনুষ্ঠিত হবে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠক। বিকাল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকটি ৩৫ মিনিট স্থায়ী হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক সংকট উত্তরণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুতে ভারতের সহায়তা চাইবেন বলে দলটির কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টসূত্র নিশ্চিত করেছে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে কি না এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। বিএনপি এই বৈঠক করার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিল। শেষপর্যন্ত বৈঠকটি করতে নানাভাবে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালায় দলটি। এর অংশ হিসেবে মোদির বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর বৈঠকের আগ্রহ জানিয়ে দিলি্লতে চিঠিও লেখেন খালেদা জিয়া। চিঠিতে বিজেপির সঙ্গে বিএনপির অতীতের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে সে সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের ভিন্নধারার রাজনীতি করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে প্রটোকলে না পড়লেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সঙ্গত কারণেই আজ বিকালে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের কোন কোন নেতা থাকবেন তা শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। দলের এক নেতা জানান, বিএনপির প্রতিনিধি দলের কারা থাকছেন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হয়নি। রোববার সকালে তা চূড়ান্ত হবে। আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, ড. আবদুল মঈন খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। একবারে শেষ মুহূর্তে এসে প্রতিনিধি দলের পরিবর্তনও হতে পারে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকে কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে তা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আলোচনায় ভারত সম্পর্কে বিএনপির চিন্তাভাবনা তুলে ধরবেন চেয়ারপারসন। জানিয়ে দেবেন বিএনপি কখনোই ভারতবিরোধী নয়।

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশাসহ গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণে ভারত সরকারের সহযোগিতা চায়তে পারেন খালেদা জিয়া। চলমান সংকট উত্তরণে দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব সমস্যায় ভারত সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান ও সহযোগিতা চাওয়া হবে দলের পক্ষ থেকে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার-হয়রানির বিষয়গুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। এছাড়া তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্ত সমস্যা সমাধানসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আলোচনার বিষয় সম্পর্কে বিএনপির এক নেতা বলেন, বৈঠকে শুধু ভারতের সমর্থনের কারণে বর্তমান সরকার টিকে আছে বলে জনগণের মধ্যে সৃষ্ট ধারণার কথা সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে। আভাসে-ইঙ্গিতে এও বলা হবে, সরকারের প্রতি একতরফা এ ধরনের সমর্থন অব্যাহত রাখা হলে দেশের জনগণের মধ্যে ভবিষ্যতে ভারতবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।
অপর এক নেতা বলেন, বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্তে হত্যাসহ দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার পাশাপাশি বিএনপির তরফ থেকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে। এ ক্ষেত্রে বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সহযোগিতা চাইবে বিএনপি।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, এ দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট মোদি সরকারের অজানা নয়। ফলে কী পদক্ষেপ নেয়া হলে গণতন্ত্রের এ সংকট দূর হবে মোদি সরকারের কাছ থেকে এমন প্রত্যাশা বিএনপি করতেই পারে। দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক এসব বিষয় আলোচনা উঠে আসবে।

সাক্ষাতে জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকছেন না?

এ বিষয়টা বিএনপির মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকারই কথা। কিন্তু উল্টো অনাগ্রহ বা সমন্বয়হীনতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মোদির সঙ্গে দেখা করবেন খালেদা জিয়া। এসময় তার সঙ্গে বিএনপির কে কে থাকবেন বিষয়টা এখনও জানানো হয়নি। কেউ মুখও খুলছেন না।

তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। যার মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রয়েছেন মাত্র একজন- ড. আব্দুল মঈন খান। এছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহামদু চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।

খালেদা-মোদি বৈঠকে বিএনপির কত সদস্য থাকবে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলি।’ এই বলে তিনি এড়িয়ে গেলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শফিক রেহমানের ফোন বন্ধ, শমসের মবিন চৌধুরীর ফোনও বন্ধ। সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রথমে ফোন ধরেনি। তবে পরে বলেন, এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা ঠিক হবে না বলে তিনি মনে করছেন।

এ ব্যাপারে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম বলেন, যারা পররাষ্ট্র নিয়ে কাজ করেন তারা জানাবেন যে কত সদস্যের প্রতিনিধি বৈঠকে থাকবে। অথচ এটি শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাকে জানানো হয়নি।



« (পূর্বের সংবাদ)