মেইন ম্যেনু

‘আত্মবিশ্বাসই মুস্তাফিজের বড় হাতিয়ার’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতোই আবির্ভাব হয়েছিল পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানের। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অল্পদিনেই সবার নজর কেড়েছেন ‘কাটার মাস্টার’। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও সমান দাপট দেখাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তাঁর বোলিং স্পেলে রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। ইয়োর্কার, কাটার, স্লোয়ারগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

মুস্তাফিজের এমন অসাধারণ বোলিংয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে আরেকটি ‘বড় শক্তি’। সেটি হল আত্মবিশ্বাস! টাইগারদের আরেক পেসার রুবেল হোসেন প্রিয় সতীর্থকে নিয়ে এমন মন্তব্যই করেছেন। ‘আত্মবিশ্বাসই মুস্তাফিজের বড় হাতিয়ার’।

যে কোনো ক্রিকেটারের সফলতার মূলে আত্মবিশ্বাসকেই বড় করে দেখছেন রুবেল। ‘প্রতিটি বোলারের আত্মবিশ্বাসটা একটা বড় বিষয়। যার আত্মবিশ্বাস যত বেশি তিনি তত সহজেই সফলতার দেখা পান। মুস্তাফিজের সেই আত্মবিশ্বাসটা আছে। সে তার দক্ষতা নিয়ে বেশ সতর্ক। এ ছাড়া তাঁর বিখ্যাত কাটার এবং মারাত্মক ইয়োর্কার তাঁকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।’

নিজের বোলিং অ্যাকশনটা অপেক্ষাকৃত কঠিন উল্লেখ করে টাইগার পেসার বলেন, ‘কাটার আমার সঙ্গে মানানসই নয়। আমার বোলিং অ্যাকশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার স্টাইলে বল করা খুবই কঠিন।’

মুস্তাফিজের বোলিং অ্যাকশনকে ফরহাদ রেজার অ্যাকশনের মতোই দেখছেন রুবেল! ‘মুস্তাফিজের বোলিং অ্যাকশন তুলনামূলকভাবে সহজ। ফরহাদ রেজার বোলিংটা বেশ মসৃণ। সে বল করার সময় অনেক প্রচেষ্টা চালাতে পারে। মুস্তাফিজের অ্যাকশনও প্রায় রেজার মতোই। তাই সে খুব একটা পীড়া অনুভব করে না। কিন্তু বল করার সময় আমার পুরো শরীরে চাপ পড়ে।’

বর্তমান সময় মুস্তাফিজের। এমন মন্তব্য করে রুবেল হোসেন বলেন, ‘একটা সময় ছিল আমার, যদিও আমি কয়েকদিন দলের বাইরে ছিলাম। কিন্তু এখন মুস্তাফিজের সময়। সে অনেক দ্রুত সফলতা ছুঁতে পেরেছে। কারণ তার মধ্যে অসাধারণ কিছু প্রতিভা রয়েছে। তবে আমি মুস্তাফিজের সঙ্গে আমার তুলনা করতে চাই না।’

গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের পেস আক্রমণটা বেশ শক্তিশালীই মনে করছেন রুবেল। ‘গেল কয়েক বছর আমাদের পেস আক্রমণটা তেমন শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। আমি মনে করছি, এটা কেবল আমার জন্য নয় পুরো দলের জন্যই বরং ভালো।’

সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ভালো করেই দলে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন রুবেল। ‘বর্তমানে দলের প্রতিটি জায়গাই বেশ চ্যালেঞ্জিং। সকলেই জানেন, ভালো খেলেই দলে টিকে থাকতে হবে, নতুবা তিনি ছিটকে পড়বেন।ইতোমধ্যে দলে অনেক নতুন ক্রিকেটার যোগ দিয়েছেন।’

বাংলাদেশ দলে এখন বেশ প্রতিযোগিতা। প্রত্যেকেই তাদের জায়গা ধরে রাখার জন্য লড়ছে। এমনটি চলতে থাকলে টাইগার ক্রিকেট অনেক লাভবানই হবে। ‘ভালো ক্রিকেট খেলেই সবাই তার নিজ নিজ জায়গা ধরে রাখতে চায়। এ রকম পর্যায় যদি চলতে থাকে, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক লাভবান হবে।’