মেইন ম্যেনু

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন গয়েশ্বর

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ‘বিতর্কিত মন্তব্যের’ অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপুর আদালতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন।

জামিন আবেদনের উপর শুনানি শেষে বিচারক তাকে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। গয়েশ্বরের পক্ষে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীন্দ্র কুমার নাথ মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিন বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম নুরু মিয়া মামলার প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গত ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুহুল কবীর রিজভী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘যারা শেষ দিন (একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পাকিস্তানের বেতন ভাতা খাইছে, তারা (শহীদ বুদ্ধিজীবী) নির্বোধের মত মারা গেল, আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দিই, আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে?’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘যারা পাকিস্তানের বেতন খেলো তারা হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা, আর যারা না খেয়ে পালিয়ে বেড়াল তারা হয়ে গেল রাজাকার।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘যারা ২৫ মার্চ মারা গেছেন, তারা মারা গেছেন না জানার কারণে। আর যারা ১৪ ডিসেম্বর মারা গেছেন তারা অজ্ঞতার কারণে মারা যাননি। তারা জ্ঞাতসারে অবস্থান করছিলেন।’ এই বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার বক্তব্যে শহীদ পরিবারের সদস্যরা জনসমক্ষে হেয় ও অপমান হওয়ায় বাদী বাধ্য হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

বাদী মামলাটিতে দ-বিধির ৫০০ ধারার বিধান মোতাবেক গয়েশ্বর রায়ের শাস্তি প্রার্থনা করেছেন।