মেইন ম্যেনু

আত্রাইয়ের ভোলা এখন হাওয়াই মিঠাইয়ের কারিগর

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ও বিভিন্ন যায়গায় ঘুরে ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে বছরের পর বছর পার করছেন আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ভোলা প্রামানিক। হাওয়ায় মিঠাই নেবে…. হাওয়াই মিঠাই….মিষ্টি নরম গোলাপি সাদা হাওয়ায় মিঠাই….। এমন করে গ্রামের মেঠো পথে হাওয়াই মিঠাই দোকানির হাঁক শুনলেই গ্রামের ঝি বউয়েরা এক সময় চার, আট

আনা দিয়ে কিংবা পুরনো কিছুর বিনিময়ে তাদের শিশুদের হাতে তুলে দিতেন হাওয়াই মিঠাই। কাঁচ দিয়ে ঘেরা বাক্সে ছোট ছোট গোলাকার হাওয়াই মিঠাই রাখা হতো। মুখে দিলেই হাওয়ার মতো মিলিয়ে যেত, তবু মুখে যে স্বাদ লেগে থাকতো তার অনুভুতি ছিলো চমৎকার। কালের পরিবর্তনে বদলেছে অনেক কিছুই। মানুষের খাদ্যাভাসে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বদলে গেছে খাবারও। বিশেষ করে ফেরি করে বিক্রি করা খাবারে এসেছে অনেক পরিবর্তন। আধুনিক ফাস্টফুডসহ নানা খাবারের তোড়ে অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে মিষ্টি খারার হাওয়ায় মিঠাই। তবু মাঝে মধ্যে দেখা মেলে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে, জনজমায়েত অথবা বিভিন্ন মেলায়। লম্বা কাঠির মাথায় পলিব্যাগে মোড়ানো গোলাপি সাদা হাওয়াই মিঠাই। আবার কখনও কখনও দেখা যায় ঘারে করে ঘুরে বেড়ায় ফেরিওয়ালা। কিছু কিছু ব্যবসায়ী আজও এই হাওয়াই মিঠাইকে হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে দেয়নি। বংশ পরাম্পরায় ব্যবসা চালিয়ে আসছে তারা। এত হরেক রকম খাবারের ভিড়েও চাহিদা কিন্তু মোটেও কমেনি এ খাবারটির। শিশুরা বেশি পছন্দ করলেও বড়রাও কম খায় না। উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় আজও দেখা মিলে গুটি কয়েক হাওয়ায় মিঠাই কারিগরের। যারা দীর্ঘ দিন থেকে এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছে।

গতকাল নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর জমিদার বাড়ির সামনে পড়ন্ত বিকেলে দেখা মিলল ভোলা নামের এক হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতার সাথে। তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি আগে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম। জীবিকা অর্জন আর পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আমি এ ব্যবসা শুরু করেছি। আমরা যারা হাওয়াই মিঠাইয়ের ব্যবসা করি তারা মূলত দুই ধরনের হাওয়াই মিঠাই তৈরি করি। একটি সাদা রঙের, অপরটি গোলাপি। সাদাটা তৈরি করতে আমার ২৫ গ্রাম চিনি খরচ হয়। এতে চিনিসহ অন্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৫ টাকার মতো খরচ হয়। আর বিক্রি করি ১০ টাকা করে প্রতি পিছ। ১ কেজি চিনি দিয়ে ৫০ পিছ তৈরি করতে পারি। গোলাপিটার খরচ একটু বেশি পড়ে। কারণ এটার সঙ্গে খাবারের যোগ্য গোলাপি রং মেশাতে হয়। গোলাপি হাওয়াই মিঠাই তৈরি করতে খরচ একটু বেশি হয়। তাই লাভ ও কম হয়। তিনি আরও জানান, এ হাওয়াই মিঠাই এখন গ্রামের চেয়ে বিভিন্ন স্কুলের গেটে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ লোকমান হোসেন জানান, মানুষ যখন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে হারিয়ে ফেলে তখন সমাজে অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়ে। এটা আমাদের দেশেও ঘটছে। আমরা দেশি খাবার ভুলে যাচ্ছি। দিন দিন ফাষ্টফুডের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছি। হাওয়াই মিঠাই আমাদের দেশি ঐতিহ্যপূর্ণ একটি খাবার যা আজ বিলুপ্ত প্রায়। এ ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলেও তিনি মনেকরেন।