মেইন ম্যেনু

আত্রাইয়ে ঝড়ে দুটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাইয়ের উপর দিয়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড়ে দু’টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন গ্রামবাসি।এই ঝড়ে ওই দুটি গ্রামের শতশত গাছ ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে গেছে। ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে গেছে। এতে দু’টি গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে হঠাৎ উত্তর দিক থেকে বড়ে আসে কালো ঝড় ও মেঘ। ঝড়ের সময় ভারি বৃষ্টিও শুরু হয়। সাড়ে ৪ টার দিকে মনোয়ারি ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি ও নৈদিঘীর গ্রামের প্রায় একশ’টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে ৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পন্ন বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

গোয়ালবাড়ি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ্য জালাল হোসেন জানান, ঝড়ে তাদের পাকা ঘর ভেঙ্গে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বাসবাস করতে হচ্ছে। একই গ্রামের মো: সামাদ জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝড়ে তাদের ঘর-বাড়ি টিন উড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এখন কিভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়েই এখন ভাবনা শুরু হয়েছে। তাদের মতো এই গ্রামের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ অন্যের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন।

নৈদিঘী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ্য আব্দুল গোনি, মো: আলামিন ও মো: রিপন জানান, তাদের মতো গ্রামের প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। এ ছাড়া শতশত গাছ ভেঙ্গে রাস্তা পড়ে আছে। বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গে যাওয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ দুটি গ্রাম পরিদর্শণ করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল্লামা শের-ই বিপ্লব জানান, ওই দুটি গ্রাম ৭০টি ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পন্ন ভেঙ্গে গেছে। ঝড়ে শতশত গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। এখন শিশু, বৃদ্ধ, পরিবারের লোকজন, গরু-ছাগল নিয়ে তারা কষ্টে রয়েছেন। এ ছাড়াও নৈদিঘী বাজারের প্রায় ১৫টি দোকানের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিগ্রস্থ্যদের তালিকা করার প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যুত বিছিন্ন থাকায় প্রায় ৮শ’ পরিবার এখন অন্ধকারে রয়েছেন। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা ও বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান জানান, প্রাথমিক ভাবে দুটি গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইত্যে মধ্যে জেলা প্রশাসনসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তালিকা জেলা প্রশাসনসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত পাঠানো প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার জন্যেও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, তালিকা পেলেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ্যদের সহযোগিতা দেয়া হবে।