মেইন ম্যেনু

আত্রাইয়ে ফসলের মাঠ এখন গোচরণ ভূমি

নওগাঁর আত্রাইয়ে দিগন্ত জুড়ে ফসলহীন মাঠ কোথাও তিল পরিমান ফসল টিকেনি বন্যার কড়াল গ্রাসে। হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে আত্রাইয়ের কৃষকের মাথায় বজ্রাঘাত হানছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল। প্রকৃতরুপে আমাদের দেশে আষাঢ় শ্রাবন বর্ষাকাল চিরাচরিত ধারায় বহমান হলেও তা যেন কালের আবর্তন অনুমেয় হচ্ছে।

কৃষক ফসলের মৌসুম ঠিক রাখতে পূর্বপুরুষের ফসল ফলানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শ্রাবনের শেষে রোপা আমনে ভরে দেয় দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ। মাঠ যখন সবুজে ভরে উঠে ঠিক সেই মুহ’র্তে ধেয়ে আসে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল, চোখের পলকে তলিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলের মাঠ। ঠিক তখন কৃষক নির্বাক বাকরুদ্ধ হতাশ জীবন যাপন করে পরিবার পরিজন নিয়ে।

গত দুই বছর ধরে রোপা আমন মৌসুমে আত্রাইয়ে এমন পাহাড়ী ঢলের প্রভাবে সর্বশান্ত হতে বসেছে কৃষক।

আত্রাই কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, এ বছর আত্রাই উপজেলা ৮ ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অসময়ে ভাদ্রের বন্যায় সমুদয় ফসল নষ্ট হয়ে ফসলী জমি গোচরণ ভ’মিতে পরিণত হয়েছে। আত্রাইয়ের কৃষকও কৃষিকে বাঁচাতে প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন।

উপজেলার ফসলী জমি ও বসত ভিটা বাঁচাতে আত্রাই নদীর কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষায় নেই কোন শক্তিশালী বেড়িবাঁধ। ফলে অতিসহজে বর্ষা মৌসুমে বানের পানি ও ভারতের পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয় ফসলী জমি।

উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার জানান, বিগত ২ বছর ধরে বোরোচাষ করে বন্যার কড়াল গ্রাসে আমরা অনেক লোকসানের শিকার হয়েছি। আশা করেছিলাম আমন চাষে যেহেতু খরচ অনেক কম তাই এবার আমন চাষ করে লোকসানের হার কিছুটা কমিয়ে নিব।

কিন্তু এবার ও বন্যায় আমন ধান রোপন করতে না পারায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। আত্রাই উপজেলার সচেতন মহল মনেকরেন, এ উপজেলার কৃষককে বাঁচাতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও সড়ক যোগাযোগ মজবুত করলেই রক্ষা পাবে এ উপজেলার হাজার হাজার কৃষক।