মেইন ম্যেনু

আত্রাই-ভবানীগঞ্জ সড়কে বিপদজনক খানাখন্দ ॥ কাদা-জলে একাকার

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অধিকাংশ পাকা রাস্তায় যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে আত্রাই-ভবানীগঞ্জ রাস্তাটি উল্লেখযোগ্য। এই রাস্তাটির মাঝে অসংখ্য বড় বড় খানা-খন্দকে ভরা। দেখে মনে হবে এ যেন রাস্তা নয় ছোট ছোট জলাশয়। এতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

রাস্তার বেহালদশায় দুর্ভোগ আর ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ। কিছু দিন পর পর ঘটেই চলেছে একের পর এক দুর্ঘোটনা। বিগত কয়েক বছর ধরে একটি রাস্তা সংস্কার করা হলে আর একটি রাস্তা যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আর এই অবস্থায় প্রতি বছরই মহাবিপদে পড়েন

উপজেলাবাসীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। আত্রাই উপজেলাবাসীর চলাচলের জন্য টিকসই কোনো রাস্তা আজও নির্মান করা হয়নি। যার ফলে রাস্তার কার্পেটিংয়ের এক বছরের মাথায় ঐ রাস্তাগুলো পরিনত হয় বেহাল দশায়।

দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলা। এই জেলার অন্য উপজেলার মত আত্রাই উপজেলা ধান চাষের জন্য বিখ্যাত বলে উপজেলার এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিশেষ করে আহসানগঞ্জ হাটের দিনেই বিভিন্ন মালামালসহ ধানবোঝাই শত শত ভারী যানবাহন ট্রাক, ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক, ভটভটি-লছিমন, অটোভ্যান চলাচল করে। এতে করে রাস্তাগুলোর সমস্যা দিন-দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের কাজ চললেও উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রের রাস্তাগুলোর সংস্কারের দিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। রাস্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্রাই-পোড়াখালী রাস্তা, আত্রাই-সিংড়া রাস্তা, আহসানগঞ্জ-ভবানীগঞ্জ রাস্তা, আত্রাই-কালীগঞ্জ রাস্তা ও আত্রাই-নওগাঁ রাস্তা।

আত্রাইয়ের সচেতন মহলের ধারণা এসব রাস্তা দিয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে এই রাস্তাগুলো খুব কম সময়ের মধ্যে বেহাল দশায় পরিনত হয়ে পড়েছে। আত্রাই হতে বিভাগীয় শহর রাজশাহী যাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য সড়কটি হওয়ায় শত দূর্ভোগকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণদের।

অচিরেই এই দুর্ভোগ হতে উত্তোরণ পেতে চান যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রতিদিন চলাচলকারী মানুষদের ধারণা এই রাস্তা গুলোর উপর দিয়ে কোনো অসুস্থ্য মানুষ যানবাহনে চলাচল করলে রাস্তার মধ্যেই দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। টিকসই কাজ না করার ফলে দ্্রুত এই রাস্তা গুলোর কার্পেটিং উঠে যায়। পানি নিস্কাশনের সমস্যার কারনে উপজেলার অনেক রাস্তা দ্রুত বেহালদশায় পরিনত হয়। বিশেষ করে আত্রাই-পোড়াখালী রাস্তাটি অতি জন গুরুত্বপূর্ণ।

এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে স্কুল- কলেজগামী শিক্ষার্থীরা । অথচ ঘনবসতিপূর্ণ এই রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে এই রাস্তার উপর থাকে এক হাটু পানি। বিভিন্ন নানামুখী সমস্যা এখন হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। বিভিন্ন্ কাজ কর্মে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে চরম বিরম্ববনার শিকার হচ্ছে।

উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের মোঃ মোতালেব মন্ডল বলেন, আত্রাই-ভবানীগঞ্জ রাস্তা দিয়ে যে কোনো যানবাহন চলাচল করে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এবং কিছু দিন পরপর ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। এ অবস্থা থেকে আমরা দ্রুত মুক্তি পেতে চাই।

উপজেলার ঘোষপাড়া (কাজিপাড়া) মোঃ মোসলেম (মশো) পেয়াদা বলেন, গত কয়েক দিন আগে আমার স্ত্রী এই রাস্তায় মাল বোঝায় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে সে মারা যায় এবং আত্রাই উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য এ রাস্তাটি এ এলাকার একটি একমাত্র রাস্তা যা উপজেলার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলা অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি সংস্কার করা অতিব জরুরী।

আত্রাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল বারী রুঞ্জু বলেন, আত্রাই-ভবানীগঞ্জ রাস্তাসহ উপজেলার বেশির ভাগ রাস্তার খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, এ রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মুঠো ফোনে আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মোবারক হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আত্রাই-ভবানীগঞ্জ রাস্তাটি রোডস এন্ড হাইওয়ের আওতাই। তাই এ রাস্তাটি কবে নাগাদ সংস্কার হবে তা আমার জানা নেই।