মেইন ম্যেনু

আদালতে সেলফি বানর!

যুক্তরাষ্ট্রের আদলতে এক আইনী ব্যাপার নিয়ে হাজির হয়েছে প্রাণীদের অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘পেটা’। সংস্থাটির দায়েরকৃত মামলার জন্য দেশটির আদালত দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে অবিলম্বে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই দুইজনের একজন হলেন ইন্দোনেশিয়ার সেই সেলফি বানর এবং অন্যজন হলেন সেই আলোকচিত্রী, যার ক্যামেরা দিয়ে বানরটি সেফফি তুলেছিল। প্রাণীদের অধিকার বিষয়ক সংস্থার মতে, ওই সেলফির কপিরাইট অধিকার একমাত্র বানরটিরই থাকতে পারে, অন্য কারও নয়।

আলোকচিত্রী ডেভিড জে. স্লাটার কয়েক মাস আগে ছবি তোলার জন্য গিয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়া। সেখানে তিনি কিছু বানরের ছবি তোলার জন্য ঘুরছিলেন ট্রাইপড আর ক্যামেরা নিয়ে। কিন্তু ডেভিডের ইন্দোনেশীয় এই বানরগুলোর চরিত্র সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা ছিল না। আর এই ধারনা না থাকার কারণে বানরদের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বানরদের তাড়া খেয়ে ক্যামেরা-ট্রাইপড রেখেই নিরাপদ স্থানে চলে যান ডেভিড। আর তখনই বানরদের ক্লিকে তাদের নিজেদের বেশকিছু ছবি উঠে যায় ক্যামেরায়। সেই ছবি পরবর্তী সময়ে গোটাবিশ্বে ‘মাঙ্কি সেলফি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

কিন্তু পিপল ফর দ্য ইথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যাল(পেটা) আদালতে এই বলে মামলা ঠুকে দেয় যে, ক্যামেরাটি আলোকচিত্রীর হওয়ার স্বত্ত্বেও ক্লিকটি বানরটিই করেছিল এবং ন্যাটইউরো যেভাবে এই ছবিটিকে তার সম্পত্তি বলছে সেটা মোটেও ঠিক নয়। তাদের দায়েরকৃত মামলার বক্তব্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইন ১৭ ইউ.এস.সি অনুসারে প্রত্যেকেই তার নিজের কাজের পূর্ণ অধিকার প্রাপ্ত এবং সেটা যদি নারুতোর মতো প্রতিষ্ঠানও হয় তাতেও।

যদিও আলোকচিত্রী ডেভিড এই মামলাকে হাস্যকর বলে অভিহিত করে বলেন, ‘পেটার কাজে আমি অবশ্যই হতবুদ্ধি হয়ে গেছি। কিন্তু একই সঙ্গে রাগ ও দুঃখও হয়েছে’। উল্লেখ্য, ডেভিড আগে এই পেটা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছিল এই প্রাণী অধিকার নিয়েই।

এদিকে আলোকচিত্রটি নিয়ে শুধু যে আদালতেই মামলা গড়িয়েছে তা নয়। ইন্টারনেট দুনিয়াতেও শুরু হয়ে গেছে এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। আলোকচিত্রী ডেভিড উইকিমিডিয়াকে এই ছবিটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। কিন্তু তার উত্তরে উইকিমিডিয়া জানায়, এই ছবিটির কোনো কপিরাইট নেই কারণ প্রাণীদের পক্ষে কপিরাইট করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই ছবিটি সাধারণের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।



« (পূর্বের সংবাদ)