মেইন ম্যেনু

আদালত পাড়ার মানুষদের তৃষ্ণা মেটায় ফরিদ

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার : কাট ফাটা রোদ। শত শত মানুষের সমাগম। তৃষ্ণা মেটাবার নেই কোন স্থান। কিন্তু পুরাতন পৌরসভার কর্মচারী ভবনের কোনায় একজন দাড়িয়ে। তার সামনে দুটি ফ্ল্যাস্ক। কয়েকটি বিস্কিটের বৈয়াম। তাকে ঘিরে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সের কিছু মানুষ। কাছে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় কারো হাতে গ্লাস ভর্তি সুপেয় পানি। কারো হাতে চায়ের কাপ। অনেকে আবার আয়েশ করে চুমুক দিচ্ছে চায়ের কাপে। তাদের সকলের লক্ষ একজন মানুষের দিকে। কয়েকবার শোনা গেল দাড়ানো মানুষ গুলোর মুখে একটি নাম ফরিদ… ফরিদ…. ফরিদ।

এই ফরিদ আর কেউ নন, একজন চা বিক্রেতা। কাছে যেতেই জিজ্ঞেস করলো কিভাই সাংবাদিক নাকি। লিখেন ভাই লিখেন। আমাদের মত সৎ, গরীব ও সেবায়িত লোকদের বিরুদ্ধে লিখেন। আমরা পরিশ্রম করে দুবেলা দুমুটো খাবার খেতে পাচ্ছি। তা আপনাদের সহ্য হচ্ছে না! যারা দুর্নীতি করছে। যারা পরের জায়গা জমি লুটপাট করছে। যারা সরকারী সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের বিরুদ্ধে না লিখে আমাদের মত গরীব, সৎ উপার্জনে চলা মানুষের পেটে লাথি মারছেন কেন?

এ প্রতিবেদক তাকে আস্তস্থ করে জিজ্ঞাসা করেন, কি ভাই কি হয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে আবার কোন সাংবাদিক লিখেছে?।

চা বিক্রেতা ফরিদ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তিন কিলোমিটার দুর থেকে পানি এনে এই আদালত পাড়ায় নাম মাত্র মূল্যে চা সরবরাহ করে আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারী, আইনজীবী সহকারী, আদালতে আগত বিচারপ্রার্থী সহ তৃষ্ণার্থ সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে একশ্র্রেণীর নস্ট মানসিকতার মানুষরা ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি আরও বলেন, আমার এই ব্যবসার মাধ্যমে দশটি পরিবার চলে। কিন্তু আমার দেখাদেখিতে কিছু অর্থলোভী মানুষ আদালতের জায়গায় ঝুপড়ি দোকান করে আদালতের কার্যক্রমে বিঘœসৃষ্টি করছে। ফলে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান পরিচানা করে। তাদের উচ্ছেদ করে। তাই আমি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই খালী জায়গায় সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে চায়ের স্টল বসিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ যখনই আদেশ দিবেন আমি সাথে সাথে স্টল সরিয়ে ফেলব।

এই ব্যাপারে কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ফরিদের সেবায় আমরা মুগ্ধ। তার চা বানোর ধরনটাই আলাদা। তার চা পান করে আমরা তৃপ্তি পাই। সে চায়ের দাম কম রাখে। ফরিদের মানসিকতা সম্পূর্ণ সেবাধর্মী। সে আছে বলে আদালত পাড়ায় আগতরা তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারছেন।

আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, আদালত পাড়ায় যে চায়ের দোকান গুলি রয়েছে তারা গলাকাটা বানিজ্য করে। তাদের সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীও নিু মানের। তাই ফরিদের চায়ের দোকানই সকলের ভরসা।

আইনজীবী সহকারী নাছির উদ্দিন বলেন, এই ফরিদ আদালত পাড়ায় না থাকলে, আমাদের খুব কষ্ট হতো। তার কাছে এসে আমরা তৃষ্ণা নিবারণ করি। সে সকলের প্রতি সদাচারাণ করেন। কখনো তাকে মন খারাপ করতে দেখিনি। সে ভোর থেকে রাত অবদি আমাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী বৃদ্ধ মোতাহের হোসেন বলেন, আমরা দুর দুরান্ত থেকে আদালতে আসি। কিন্তু আদালত পাড়ায় তৃষ্ণা নিবারনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ফরিদের চায়ের স্টলেই আমরা চা কিংবা পানি পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করি।

কিছু মানুষ মনে করেন, এই আদালত পাড়ায় সম্পূর্ণ প্রশাসনের উদ্যোগে একটি ক্যান্টিন খোলা প্রয়োজন। যেখানে থাকবে সস্তায় খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা। এতে করে দুর হবে আদালত আগতদের বিড়ম্ভনা।