মেইন ম্যেনু

আনন্দময়ী দুর্গাপূজা আসছে

আসছে দুর্গাপূজা। উৎসব আনন্দের এই দিন ঘিরে সবার মনে কতো পরিকল্পনার আনাগোনায় না চলছে? যুগের হাওয়ায় ধর্মীয় উৎসবগুলোতেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হলেও আজ আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই। আনন্দের বন্যা উপছে পড়ছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী উৎসব প্রিয় কোটি মানুষের হৃদয়ে। যেখানে জাতি গোত্র ভেদাভেদ নেই। তাই পূজাকে ঘিরে আয়োজন চলছে উল্লেখ করার মতোই।

পূজার ছুটিতে অনেকদিন পর বাড়ি ফেরা, আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সময় দেয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজি আর প্রতিমা দেখার অজুহাতে এ মন্দির ও মন্দির ঘোরা। সাজগোজ মুডে থাকা, মজার সব খাবার খাওয়া আর বড়দের কাছ থেকে প্রণামী নিয়ে ইচ্ছেঘুড়িতে চেপে এদিক ওদিক ওড়াউড়ি। এ সময় বাড়ির বাচ্চারা ক্ষণে ক্ষণে আতশবাজী ফুটিয়ে ভালো লাগার অভাব মিটিয়ে নেয়। সবার মনে যেভাবে আনন্দ বয়ে যায় তাতে যষ্ঠী থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে যেন সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণার অবস্থান।

ষষ্ঠীতে দেয়া হয় ঘটপূজা। এইদিন বাড়ির মা কাকিদের ব্যস্ততা থাকলেও ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে তরুণ তরুণীদের তেমন প্রভাবিত করে না। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই যখন স্বজোরে ঢাকের বাজনা কানে এসে লাগে, মনে দোলা দিতে থাকে সবার।

সকাল উঠে স্নান সেরে সাদামাটা সাজেই অঞ্জলি দিতে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা। সন্ধ্যা হলে পাড়ার সবাইকে নিয়ে সন্ধ্যা আরতি। এ যেন এক মিলন মেলার নামান্তর। পরিচিত সব ছেলেবুড়োর দল, মা-কাকি আর পাড়াতো ভাই, বোনদের সমাগম বাড়তে থাকে একে একে। অনেকদিন পর আবার দেখা হয় সবার সঙ্গে। তাই এমন দিনে মন্দিরে উপস্থিত থাকতে ভুলে যান না কেউ।

একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরিরত ইমন দে এর কাছে পূজার দিনগুলি স্বপ্নের মতোই সুন্দর। সারাবছর নানা ব্যস্ততায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় না থাকলেও পূজায় ঠিকই সময় বের করে নেন। বেশির ভাগ সময় বন্ধুদের সঙ্গে দলবেধে মন্দিরে গিয়ে পূজা দেখা হয়, দেবীকে প্রণাম করা হয়। তাদের সঙ্গে কাটানো হয় কিছু আড্ডাময় সময়।

এসময় ইমন নিজের সাজগোজ নিয়েও বেশ সচেতন থাকেন। পূজা দেখার সময় পোশাক হিসেবে বেছে নেন হালকা রঙের পাঞ্জাবি। বিশেষ করে সপ্তমী, অষ্টমীতে সন্ধ্যাটা কাটান হালকা আকাশী, নীল, সবুজ বা সাদা পাঞ্জাবিতে। নবমী আর দশমীতে বেছে নেন গাঢ় রঙের পাঞ্জাবি। অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করেই একই রকম পাঞ্জাবি পরা হয়। পাঞ্জাবির সঙ্গে থাকতে পারে ধুতি, পাজামা বা প্যান্ট। পায়ে থাকতে পারে মানানসই চটি স্যান্ডেল। হাতে ঘড়ি, ব্রেসলেট থাকে সাজ উপযোগী। পূজার আগে পছন্দসই চুল আর দাড়ি কাটিয়ে নিতে ভোলেন না ইমন। টুকটাক ত্বকের যত্নও চলে পূজার কয়েকদিন আগ থেকে।

প্রতিমা বিসর্জনের সময় অবশ্যই তার টি-শার্ট পরা চায়। তার মতে, পূজার এই মাহেন্দ্রক্ষণে লাগামহীন আনন্দে সামিল হতে থাকতে হবে আরামদায়ক পোশাক। উলুধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশ বলে দেয় মা দুর্গার বিদায় ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। আনন্দময়ী দুর্গাদেবীকে উদ্দেশ্য করে দৃষ্টিজুড়ানো আরতি, নানা রঙে একে অপরকে রাঙানো আর মিষ্টিমুখ করার ভেতর দিয়ে পার করা হয় বিদায় মুহূর্ত। এসবের কোনটিই বাদ দেন না তিনি। নিজ হাতে যত্ন করে নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া আত্মিক শুদ্ধির অপর নাম বলে মনে করেন ইমন। মাকে এভাবে বিদায় দেয়া তার কাছে শুধু বিদায় নয়, মনে পোষণ করেন মুখেও উচ্চারণ করেন- বল, দূর্গা মা কি – জয়, আসছে বছর আবার হবে..