মেইন ম্যেনু

আনন্দে ভাসছে শিক্ষার্থীরা : পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ মিলবে তো?

এবার বরিশাল বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে আইরিন আক্তার। সে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু ওই কলেজে ভর্তির আসন আছে ১৮ শ’র চেয়ে কিছু বেশি।

এই কলেজেই জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১ হাজার ৪২০ জন। আইরিনের অভিভাবক রাহিমা বেগমের উদ্বেগ- মেয়েকে এই কলেজে ভর্তি করতে পারবেন তো? কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তি করার চিন্তাই এখন তাকে তাড়া করছে। শুধু আইরিনই নয়, এমন হাজারো আইরিনের মধ্যেই ভর্তি নিয়ে এমন উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

এসএসসিতে ভালো ফল করে আনন্দে ভাসছে পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু আনন্দের রেশ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন, কোথায় ভর্তি হবে, পছন্দসই কলেজে সুযোগ মিলবে তো?

এবার গতবারের চেয়ে এক দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৮.২৯ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে এক লাখ নয় হাজারেও বেশি পরীক্ষার্থী।

এবার সারাদেশে এসএসসিতে পাস করেছে মোট ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩৬ জন। আর সারাদেশে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির আসন আছে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৯টি। তবে ভালো মানের কলেজে আসন সংখ্যা এতো নয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য ও কলেজগুলো থেকে জানা যায়, রাজধানীতে ভালো মানের কলেজ আছে ২০টির মতো। এগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন আছে ১৬ হাজার। তবে এসব কলেজের বেশিরভাগের আবার স্কুল শাখাও রয়েছে। তাই বাইরের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কম।

অন্যদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে সব মিলিয়ে ভালো মানের কলেজ আছে প্রায় ১৬০টি। এতে সব মিলিয়ে ৬০-৬৫ হাজারের মতো আসন আছে। অথচ এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৯৬ হাজার ৭৬৯ জন।

এছাড়া মাদ্রাসার দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ভোকেশনাল পাস করা শিক্ষার্থীর বড় অংশ কলেজে ভর্তি হয়। এবার মাদ্রাসায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৫ হাজার ৮৯৫ জন। আর কারিগরিতে পেয়েছে ৭ হাজার ৯৭ জন। এছাড়া দশ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ফোর পর্যন্ত পেয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৯১ পরীক্ষার্থী। তাই জিপিএ ফাইভ পেয়েও মানসম্মত কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হবে অনেক শিক্ষার্থী।

২৬ মে থেকে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এবার আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে পছন্দের তালিকায় ১০টি কলেজের নাম দিতে পারবে। এবারও অনলাইন ও মোবাইলের মাধ্যমে ৯ জুন পর্যন্ত কলেজে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে।

তথ্য বিশ্লেষণে ও অতীতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত জিপিএ ফাইভ ও জিপিএ ফোর পর্যন্ত পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভালো মানের বা নামকরা কলেজে ভর্তি হতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একাদশে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থী যদি নামকরা কলেজে ভর্তি জন্য ভিড় করে, তাহলে ভালো কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হবে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। শুধু জিপিএ ফাইভ পাওয়া এমন ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীকেও নামকরা কলেজে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আবার এসএসসির পরে ঢাকাসহ বিভাগীয় বড় কলেজে শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু শুধু জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার এত আসন নেই নামকরা কলেজগুলোতে।

রাজধানীতে মোট ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি রয়েছে। এর মধ্যে ভালো মানের কলেজ আছে মাত্র ২০টি, যেখানে আসন সংখ্যা ১৬ হাজার। বিপরীত দিকে শুধু ঢাকা বোর্ডেই এবার পাস করেছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জন। এর মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৩৩ জন। আবার জিপিএ ফোর থেকে ফাইভের এর মধ্যে পেয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫২৪ জন।

এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘কলেজে আসন নিয়ে কোনো সঙ্কট নেই। ভালো কলেজে আসনের সমস্যা থাকবেই, তবে আমাদের সব শিক্ষার্থীই কলেজে ভর্তি হতে পারবে’।

জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘মানসম্মত কলেজে সবাই ভর্তি হতে চায়। তবে অনেক জিপিএ ফাইভ পেয়েও ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। এটা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার’।