মেইন ম্যেনু

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের ১০ বছর

৬ আগষ্ট ২০০৬। ক্রিকেট ইতিহাসে ২ হাজার ৩৯৮ নম্বর ওয়ানড ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক প্রসপার উতসেয়া। পিচের মধ্যেই ম্যাচ ধারাভাষ্যকারের সাথে আলাপ শেষ করলেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক। ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট আসলেন এবার ধারাভাষ্যকারের সামনে।

সিরিজে পিছিয়ে পড়া অধিনায়কের মুখে হটাৎ করেই উঠে আসলো দুজনের নাম। মূল একাদশে জায়গা করে নিলেন সাকিব আল হাসান। অভিষেকেই আলো ছড়ান সাকিব! প্রথমে ১০ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে নেন চিগুম্বুরার উইকেট। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৪৯ বলে ২টি চারের সাহায্যে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। দল জয় ৩২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। সিরিজ জয় করে নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ৩-২ ব্যবধানে।

সেই শুরু। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে। দেখতে দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিচরণ করে ফেলেছেন ১০টি বছর। টাইগারদের অনন্য মর্যাদায় এনে দেওয়া এক তরুণ বনে গেলেন, ‘বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘দূত’ বলা হয় তাকে। সাকিব দেশ ও দেশের বাইরে মিলে খেলেছেন মোট ১৩টি দলের হয়ে। যেখানে সাকিব ঠিকমত নিজের প্রাকটিসটাও সারতে পারেন না। সাকিব যথাক্রমে খেলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল, বাংলাদেশ-এ দল, বিসিবি একাদশ, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, খুলনা বিভাগ, রংপুর রাইডার্স, খুলনা রয়েল বেঙ্গল টাইগার্স, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, বার্বাডোজ ত্রিনিদার্দ, কলকাতা নাইট রাইডার্স, করাচি কিংস, জ্যামাইকা তালওয়াস ও ওরচেস্টারশায়ার।

এখন পর্যন্ত আর কোন টাইগার ক্রিকেটার এমন সামর্থ্য অর্জন করতে পারেনি যতগুলো অর্জন সাকিবের আছে। বিশ্ব ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার হওয়ার খেতাব অর্জন আছে শুধু সাকিব আল হাসানের। যা ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব।

সাকিব আল হাসান দেশের হয়ে দীর্ঘ ১০ বছরে তিন ফরম্যাটে ২৫৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে ৮ হাজার ৩২৪ রান করেছেন সাকিব। তিন ফরম্যাটে ৫৫টি অর্ধশতকের সাথে ৯টি শতক হাঁকিয়েছেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। বল হাতে সাকিব আল হাসান বরাবরেই দুত্যি ছড়িয়েছেন। তিন ফরম্যাটে ২৭৭ ইনিংস বল করে লুফে নিয়েছেন ৪১৮টি উইকেট।

২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় সাকিবের। সেই বছর ২৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। আর ২০০৭ সালের ১৮ মে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় সাকিবের।

এ পর্যন্ত ১৫৭ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে তিনি করেছেন ৪ হাজার ৩৯৮ রান। যেখানে সর্বোচ্চ ইনিংস ১৩৪*। আর বল হাতে নিয়েছেন ২০৬ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৪৭ রানে ৫ উইকেট।

৪২ টেস্টে ব্যাট হাতে করেছেন ২ হাজার ৮২৩ রান। সর্বোচ্চ ১৪৪। বল হাতে নিয়েছেন ১৪৭ উইকেট। এক ম্যাচে তার সেরা বোলিং ফিগার ১২৪ রানে ১০ উইকেট।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৫৪টি। যেখানে তার রান ১ হাজার ১০৩। সর্বোচ্চ ৮৪ রান। বল হাতে নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ১৫ রানে ৪ উইকেট।



(পরের সংবাদ) »