মেইন ম্যেনু

আন্ধকারেই রয়ে গেল সব হত্যার রহস্য (ভিডিও)

২০১৩ সাল থেকে ধর্মনিরপেক্ষ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট, প্রকাশক, সংখ্যালঘু ও মুক্তমনা ২৯ জন ব্যক্তি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত রহস্যই রয়ে গেছে অন্ধকারে। বরং এখনো হত্যার হিটলিষ্ট প্রকাশ করে যাচ্ছে জঙ্গিরা।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই রায় ঘোষণার পর পরই সর্ব্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে সক্রিয় আন্দোলন শুরু করে ব্লগারদের একটা অংশ। এই আন্দোলন শুরুর কয়েকদিন পরই ১৫ ফেব্রুয়ারি পল্লবীতে ব্লগার রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর পর থেকেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুচনা। এরপর একে একে ২৯জন ধর্মনিরপেক্ষ লেখক, প্রকাশক, শিক্ষককে জীবন দিতে হয়েছে।

গত বছরের ১২ মে সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার নুরানীদীঘির দক্ষিণ কোণে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার ও ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশকে। একই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা, ৭ আগস্ট নিলাদ্রী চ্যাটার্জি ওরফে নিলয় হত্যা, ৩০ মার্চ তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান বাবু হত্যা, ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যা চেষ্টা ও একই বছরের ১০ এপ্রিল বুয়েটের ছাত্র ও ব্লগার আরিফুর রহমান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।

এর মধ্যে রাজিবকে হত্যার দায়ে দুইজনকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বাঁকিদের হত্যা মামলার তদন্তনাধিন বলছে পুলিশ।

কিছু দিন ধরে দেশজুড়ে চলছে চরম আতঙ্ক। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি হত্যা। গত ৩০ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার (৫০) নামে এক দর্জিকে। দুপুরের দিকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায় তিন যুবক। পুলিশ বলেছে, ঘটনার পরই তারা খুনিদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা করা হয়, একই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পরমানন্দ রায় নামে এক সাধুকে একই কায়দায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ঘাতকেরা। এক দিন পর ২৫ এপ্রিল রাজধানীতে কলাবাগানের লেকসার্কাসে খুন করা হয় ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে।

এদিকে, আজ সোমবার ২মে রাজশাহীর ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘হত্যার হুমকি’ দিয়ে চিঠি দিয়েছে ইসলামী লিবারেশন ফ্রন্ট (আইএলএফ) নামে একটি সংগঠন। ডাকযোগে পাঠানো ওই চিঠিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের নাম। এভাবে একের পর এক টার্গেট কিলিং। কিন্তু কোনো ঘটনারই কূলকিনারা মিলছে না।

গত ২১ মার্চ কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার রহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি। ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুরনো ঢাকায় ব্লগার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৩ এপ্রিল সকালে প্রকাশ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে খুন হন সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী।

এর আগে ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কুপিয়ে ও গুলি করে দু’জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গোপালগঞ্জে সাধু পরমানন্দ রায় হত্যা মামলায় পুলিশ শরিফুল শেখ নামে একজনকে গ্রেফতারের পর সাত দিনের রিমান্ডে নিলেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী ও অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম হত্যা এবং বাগমারায় আহমদিয়া উপাসনালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকারের খবর দিয়েছিল ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। কিন্তু ওয়েবসাইটে পাওয়া এসব তথ্য ভিত্তিহীন বলেছে পুলিশ।

অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা ও বাগমারা উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে পুলিশ। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার ঘটনাকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

এতসব ঘটনার পরেও পুলিশ বলেছে সব ঘটনায় পুলিশ আসামীদের সনাক্তকারার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু কিছু মামলায় পুলিশ অনেক দূর এগিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

এদিকে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী অনলাইন দাবি করছে এসব ঘটনা আইএস ঘটিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতকে দোষারোপ করছেন। আর বিএনপি আওয়ামী লীগকেই দায়ি করছে। আর স্বারষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে কোন আইএস নেই, এসব হত্যাকাণ্ড দেশিয় জঙ্গিদের কাজ। ডেইলি স্টার