মেইন ম্যেনু

আপনার টুথব্রাশ গোপনে রোগ ছড়াচ্ছে না তো!

স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা দিনে দুবার ব্রাশ করার অভ্যাস রাখেন। দাঁতের যত্নে উত্তম এই পদ্ধতি পালন করে ভাবেন দায়িত্ব শেষ। অথচ সামান্য কিছু ভুলে আমরা আরও বেশি ঝামেলা বাধিয়ে বসি। নিজেদের দাঁতের অসুখ থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য অংশেও রোগের সৃষ্টি করি। সামান্য এই ভুলগুলো আমাদের জন্য কতোটা মারাত্মক তা জানলে যে কারো চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। আপনার টুথব্রাশও হয়তো গোপনে রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাই মিলিয়ে নিন আপনিও রোজ এমন ভুল করছেন কিনা..

ওয়াসরুমে পেস্টব্রাশ রাখার অভ্যাস আছে অনেকের। অথচ টয়লেটের ছয় ফুটের মধ্যেও যদি টুথব্রাশ রাখা হয় তবে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। কারণ টয়লেটের জীবাণুরা খুব সহজেই টুথব্রাশে বাসা বাধে। আর প্রতিদিন ব্রাশ করার সময় তা মুখে প্রবেশ করে অনায়াসে। তাই ওয়াসরুম ছাড়া অন্য কোথাও রাখার অভ্যাস করতে হবে।

কেউ কেউ টুথব্রাশের সুরক্ষায় প্লাস্টিক বক্সের ভেতর রেখে দেন। অথচ বক্সের ভেতর ব্রাশ রাখা খুবই বিপজ্জনক অভ্যাস। কারণ এতে বক্সের ভেতর প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও উপযুক্ত পরিবেশে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি সহজ হয়। এ কারণে বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক বক্সের বাইরে টুথব্রাশ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। কাপড়ের তৈরি একটি পরিষ্কার প্যাকেটের ভেতর টুথব্রাশ রাখলে সবচেয়ে ভালো হয়। এতে টুথব্রাশের আর্দ্রতা যেমন শুকাবে তেমনি এটি জীবাণুদের প্রবেশেও কিছুটা বাধা দেবে।

দিনের পর দিন একই ব্রাশ ব্যবহার করে যাচ্ছেন কিন্তু ব্রাশের ভেতর জমে থাকা ময়লা দূর করছেন না। এই অভ্যাস আপনার দাঁতের ময়লা দূর করার বদলে আরও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ঘটাচ্ছে। এ কারণে মাঝে মাঝেই ব্রাশ পরিষ্কার করা জরুরি।

আপনার টুথপেস্টে যদি অতিরিক্ত কেমিক্যাল থাকে তবে তা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত ব্রাশ পরিষ্কার না করলে জমে থাকা সোডিয়াম লউরেল সালফেট বা ট্রাইক্লোসান কোপলিমার এবং কিউরেটোলাযুক্ত পেস্ট আপনার ক্ষতির কারণ হবে। মুখের ভেতরে উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলে।

নষ্ট না হওয়ায় একটানা দীর্ঘদিন একই ব্রাশের ব্যবহার আপনার দাঁতের ক্ষতি করছে। তাই ব্রাশ ভালো থাকলেও প্রতি তিন মাস অন্তর তা পরিবর্তন করা উচিৎ।

দাঁতে সহনশীল এবং ভালো মানের ব্রাশ একটু বেশি দাম হলেও কেনা উচিৎ। কারণ এটি আপনার দাঁতের সঙ্গে মুখের ত্বকের যত্ন অক্ষুণ্ণ রাখবে।

ব্রাশ এমন জায়গায় রাখা উচিৎ যেখানে পোকা মাকড়ের উপদ্রব না থাকে। এতে জীবানু সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা থাকে না।