মেইন ম্যেনু

আপনার পরিবারের পদকও প্রত্যাহার দরকার : জাফরুল্লাহ

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের যারা এই পদক পেয়েছেন তাদেরটাও প্রত্যাহার করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কী স্মরণ রাখছেন, আপনার পরিবারের কয়জনের এই স্বাধীনতার পুরস্কার আছে।

‘যদি জিয়াউর রহমানের পদক প্রত্যাহার করেন, আপনাদেরও পদকগুলো তো প্রত্যাহার করা দরকার। আপনাদের পরিবারের যতজন পেয়েছেন, তাদের পদক প্রত্যাহার করা দরকার।’

খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সামরিক বাহিনী থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ক্রীড়ায় শেখ কামালকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেত্রীর ফুফা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল হক মনিও মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন।

জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে শুক্রবার দুটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপির।

পদক প্রত্যাহারে মন্ত্রিসভা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে গত জুলাই মাসে ‘সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একটি নথি কমিটিতে পাঠানো হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কমিটি পদক প্রত্যাহারের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে এই পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা ‘পরামর্শকদের’ দায়ী করে তাদের সমালোচনা করেন পেশাজীবী নেতা মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, সে মুক্তিযোদ্ধাৃসেক্টর কমান্ডার; এতে কোনো সন্দেহ নেই, কারো আপত্তি নেই। মারা যাওয়ার পরে গতকাল আপনারা কী সিদ্ধান্তটা নিলেন? এটা একটা সিদ্ধান্ত হলো?

‘আপনার (শেখ হাসিনা) পাশেৃএজন্য বলেছি, এরা কুকুরের বাচ্চাও না; এরা বিড়ালের ছায়ের মতো ন্যাং ন্যাং করে। কি করে এরা আপনাকে এই পরামর্শ দিতে পারে, তার স্বাধীনতা পদকটা প্রত্যাহারে করে নেওয়ার জন্য?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পদক প্রত্যাহার দরকার বলার পর নিজের পদকটিও ফেরতে নির্দেশ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পদক পাওয়া জাফরুল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্দেশ দেওয়া উচিৎৃআমরা যারা পেয়েছি, আমাদের পদকও ফেরত দেয়ার জন্য। তা না হলে অন্যায়ৃএভাবে লুকোচুরি খেলা করে লাভ হবে না।

‘আপনি জনগণের স্বার্থে সহনশীল হোন, সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন, আজকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে এই জাতীয় যে কা-কলাপ করছেন, এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর, আপনার পরিবারের জন্য ক্ষতিকর, আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এটা কারোর জন্য মঙ্গলকর নয়।”

খোলা চিঠি প্রসঙ্গ
সাম্প্রতিকালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ ও দলের অভ্যন্তরে অধিক গণতন্ত্র চর্চাসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে লেখা খোলা চিঠি প্রসঙ্গেও আলোচনায় কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির উদ্দেশ্যে আমি একটা খোলা চিঠি লেখেছি। আজকে প্রত্যেকটা পার্টির অভ্যন্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা দরকার। ওই চিঠি কেবল খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে নয়, ওই চিঠি বেগম হাসিনা ওয়াজেদের উদ্দেশ্যেও লেখা।

‘সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে যা হবার তা-ই হচ্ছে। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে আমলাদের অধিকার বাড়ে, আমলারা ভুলপথে নিয়ে যায়। রাজনীবিদদের কাজ থাকে না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সুন্দরবন রক্ষা কর, পরিবেশ বাঁচাও এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর যাবে না’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য।

সভা থেকে অবিলম্বে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক কারাবন্দি মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তির দাবিও জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।