মেইন ম্যেনু

আপনার সন্তান কি স্কুলে পড়ে? তা হলে এই খবর অবশ্যই পড়ুন…

সন্তানকে বড় করে তোলার স্বপ্ন কোন বাবা-মা না দেখেন? কিন্তু সেই কুঁড়ি যদি অকালেই ঝরে যায়? যেখানে একটি ফুলের বিকশিত হওয়ার কথা, সেখানেই পিষে গেল একটি ফুটফুটে প্রাণ।

সাধ ছিল, সন্তানরা একদিন মেঘ-ভাঙা সূর্যের মতো ঝকঝক করবে। কিন্তু সাধ্য ছিল না। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের রতন সিংহ তবু চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এমন অকাল মেঘে তাঁর কন্যাটি যে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তা বুঝতে পারেননি। বুঝবেনই বা কীভাবে? বেড়ে ওঠার বয়সে শরীরের সঙ্গে মনেরও যে পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে, তা ঠাহর করতে পারেননি। ঠাহর হল ছাদ থেকে রোগাটে চেহারাটা ঝুলতে দেখার পরে।

ঘটনাটি কী, তা শুনলে রাগে শরীর কাঁপতে থাকবে। রতন সিংহ তাঁর চার সন্তানকে গাজিয়াবাদের ডিএসপি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। প্রিয়াংশী, কৃষ্ণা, অনুষ্কা এবং সাদাক্ষ পড়াশোনা করছিল দিব্যি। কিন্তু অভিযোগ, মাঝপথে স্কুলের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রতনের পক্ষে সেই টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি চার সন্তানকেই নিয়ে আসেন অন্য স্কুলে।

কিন্তু ডিএসপি স্কুলে রতনের চার সন্তানের ফি বাবদ ১১ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। অভিযোগ, সেই টাকা আদায় করতে স্কুলের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা রতনের বাড়িতে এসে রীতিমতো অশান্তি করতে থাকে। অন্তত ১১জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এসে রতনকে রীতিমতো হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। রতন তাঁদের বলেন, টাকা জোগাড় করতে তাঁর স্ত্রী গ্রামে গিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষকরা সে কথায় কর্ণপাত করেননি। উল্টে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।

অভিযোগ দায়ের করে বলেন যে, রতন শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানি করেছেন। রতনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বাড়িতে ছোট ছোট তিন ভাইবোনের সঙ্গে তখন এরা প্রিয়াংশী। পুরো ঘটনা চোখের সামনে দেখার পরে বাবার অপমান সহ্য করতে পারেনি সে। সিলিং ফ্যান থেকে নিজের শরীরটা ঝুলিয়ে দেয় সে। ভাইবোনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দরজা ভেঙে পুলিশ যখন ঢোকে, ততক্ষণে প্রিয়াংশীর দেহ নিথর হয়ে গিয়েছে।

এবারে পুলিশ বলছে, শিক্ষক-শিক্ষিকারা রতনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছিলেন, তা মিথ্যা। প্রিয়াংশীর মৃত্যুর জন্য কয়েকদন শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগও গ্রহণ করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তাঁদের দু’-একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
সবই হল। কিন্তু…