মেইন ম্যেনু

আপনি কি ৪০ বছর বয়সেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন?

অনেকেই এখন ৪০ বছর বয়স না পেরোতেই দেহে ভাটার টান অনুভব করেন। এ সমস্যা নারীদের ক্ষেত্রে অহরহ দেখা যায়। বহু নারীই তাদের বয়স ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে হঠাৎ করে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তাদের অনেকেই দেহের ওজন বৃদ্ধি ও মেদ জমার কারণে সমস্যায় পড়েন । এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জীবনযাপন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন না আনলেও ৪০-এর কোঠায় দেহের এ পরিবর্তনগুলো আসতে পারে। এর অন্যতম কারণ দেহের পুষ্টি চাহিদার পরিবর্তন। প্রতি দশকেই দেহের পরিবর্তন হয়। আর এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টির চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে।

মার্কিন ডায়েটেশিয়ান ম্যারিয়ান জ্যাকবসেন তার বইতে দেহের এ পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ‘মিডলাইফ নিউট্রিশন : হেলপিং ওম্যান ওভার ৪০ ওভারকাম নিউটিশন চ্যালেঞ্জেস’-এ তিনি লিখেছেন, ‘নারীদের মধ্যবয়সে যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় তার মূলে রয়েছে পুষ্টি ও সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য সমস্যা (অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি, বডিম্যাস ইনডেস্কের ভারসাম্যহীনতা, হাড়ের স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ ও অন্যান্য বিষয় যা তাদের পক্ষে সমাধান করা অসম্ভব।’

তবে এ সমস্যা সমাধানে তাদের খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটানো একরকম অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে একজন পুষ্টিবিদ বলেন, ‘আপনি ২০ বছর বয়সে যে খাবার খেতে পারবেন তা ৪০ বছর বয়সে নিয়মিত খেতে পারবেন না। আপনার দেহ এক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ৪০ বছর বয়সে আপনার খাবারের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। এছাড়া আপনার দেহের প্রয়োজনীয়তা জেনে সে অনুযায়ী খাওয়া জরুরি। অন্যথায় দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে।’
অনাকাঙ্ক্ষিত চর্বি

৪০ বছর পার হলে বহু মানুষেরই দেহের ওজন বেড়ে যায় এবং বাড়তি চর্বি জমতে থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে প্রি-মেনোপজ সময়ের একটি প্রক্রিয়া। এটি মূলত এস্ট্রোজেন হরমোন নিঃস্বরণ কমে যাওয়ার কারণে ঘটতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যায় পেটের বাড়তি চর্বিতে। এছাড়া এ সময়ে দেহে পানি জমা, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা ও পুষ্টিহীনতা দেখা যায়।
এ ধরনের সমস্যা নিরসনে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা নানা পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন। হিলিং ডায়েট বিশেষজ্ঞ ধাবানি শাহ মধ্যবয়সের এ সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ১০ মিনিট পেটের শারীরিক অনুশীলনের পরামর্শ দেন। এটি হরমোন উৎপাদন বাড়াবে বলেও তিনি জানান।

ওজন কমানোর জন্য প্রাণীজ আমিষ কমিয়ে উদ্ভিজ্জ আমিষ, হোল গ্রেইন ও নানা ধরনের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি বলেন, এ বয়সে অনেকেই নানা কারণে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবন করেন। এগুলো দেহ স্ফীত করে দেয় এবং ওজন বৃদ্ধি করে। এ কারণে আমলকি, ঘৃতকুমারি, তুলসি, সয়া ও হলুদ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। এছাড়া নিয়মিত হাঁটা কিংবা জগিং করা উচিত। সম্ভব হলে ইয়োগা করা যেতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্য

বয়স ৪০ পেরোলে অনেকেরই হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মূল কারণ হরমোন পরিবর্তন। হরমোনের পরিবর্তনে দেহের অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে ক্যালসিয়ামেরও ঘাটতি হতে পারে। আর এতে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। এ সমস্যা মোকাবেলায় ক্যাললসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে দুধ, ডিম, দই ইত্যাদি। এছাড়া সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, বীজ, বাদাম, ছোলা ইত্যাদি খেতে হবে নিয়মিত।