মেইন ম্যেনু

আপনি কেন গাজর খাবেন?

গাজর প্রচুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি সবজি। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, রাতকানা প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নয়নে কাজ করে গাজর। উচ্চ পুষ্টি সম্পন্ন এই সবজিটি লাল, কালো, উজ্জ্বল কমলা এবং রক্ত বর্ণের হয়। গাজরের সবজি, তরকারি, সালাদ, নুডলস, এবং মজাদার হালুয়া তৈরি করা হয়।

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গাজরের জুস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। গাজরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হলো:

১. ভিটামিন-এ: এই ভিটামিনটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লাল ও হলুদ রঙের সবজি ও ফলমূল যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, এবং তরমুজ বা বাঙ্গিতে বিটা-ক্যারোটিন থাকে যা আমাদের শরীর গ্রহণ করার পর ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়। রাতকানা সমস্যা দূর করতে ভিটামিন-এ প্রধান ভূমিকা পালন করে।

২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: গাজরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করা ও তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে অ্যান্টঅক্সিডেন্ট। তাছাড়া, হৃদরোগ, ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।

৩. ক্যানসার প্রতিরোধ: খাবার হজমের পর শরীরে কিছু বর্জ্য থেকে যায়। যা ফ্রি রেডিক্যালস নামে পরিচিত। ফ্রি রেডিক্যালসের কাজ হচ্ছে-আমাদের কোষ ধ্বংস করা।অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ক্যানসারের কোষগুলোকে সক্রিয় হতে বাধা দেয়। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে ৩৩ শতাংশ ভিটামিন-এ, ৯ শতাংশ ভিটামিন-সি এবং ৫ শতাংশ ভিটামিন-বি-৬ রয়েছে। যা সমষ্টিগতভাবে ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে কাজ করে।

৪. কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি: গাজরের জুসে প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে। যা আমাদের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং প্রদাহ রোধে কাজ করে। গাজরের জুসে বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে যেমন: বি-৬, কে, পটাসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি। যা আমাদের শরীরের হাড় গঠন, স্নায়ুকে শক্তিশালী এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়।

৫. হৃদপিণ্ড: হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য শারীরিক সুস্থতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গাজর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় ধমনীর প্লেক দূর করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে।

৬. উজ্জ্বল ত্বক: গাজরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ পদার্থ কোষের ক্ষয়রোধ করে। ফলে ত্বক সুন্দর থাকে এবং তরুণ দেখায়। এসব পুষ্টি উপাদান ত্বকের শুষ্কতা রোধ করে, ত্বকের রঙ উন্নত করে এবং ত্বকের ক্ষত ও ত্রুটি দূর করে।

৭. কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: গাজরের জুস পটাশিয়াম থাকে যা কোলোস্টেরল ও রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মত কাজ করে। স্বল্পমাত্রার ক্যালরি ও শর্করা এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। তাছাড়া, শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।



« (পূর্বের সংবাদ)