মেইন ম্যেনু

আপিলের অনুমতি পেলেন ১১০ চিকিৎসক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০ জন চিকিৎসকের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

রোববার সকালে চিকিৎসকদের করা রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে ১১০ চিকিৎসকের পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন। অপরপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এ এম আমিন উদ্দিন ও শরীফ ভূঁইয়া।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট ১১০ চিকিৎসকের মধ্যে যোগ্যদের কীভাবে চাকরিতে রাখা যায়, সে ব্যাপারে মতামত জানাতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

পরে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতে এসব চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হলেও হাইকোর্টের রায়ে তা প্রতিফলিত হয়নি। রায়ে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এসব পদ তৈরি করা হয়েছে। তা ছাড়া এসব চিকিৎসককে নিয়োগের সময় রিটকারী সিন্ডিকেটে ছিল, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মূলত এসব কারণেই ১১০ জন চিকিৎসক লিভ টু আপিল খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম সিন্ডিকেটে ২০০ জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর কিছুসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ।

সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে স্বাচিপের তৎকালীন মহাসচিব ইকবাল আর্সলান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিয়োগ সংশোধন সাপেক্ষে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, নিয়োগকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা যেন দুই শর বেশি না হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ১ মার্চ ১৯৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০০৮ সালে সিন্ডিকেটে ১৭৪ জনকে চাকরিতে স্থায়ী করা হয়। ওই স্থায়ীকরণের সময় রিটকারী ইকবালও সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন বলে জানান আবেদনকারী চিকিৎসকরা।

তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের পর চিকিৎসকদের অজান্তেই ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ-সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই চিকিৎসকদের নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করেন।

এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে ১৭০ জন চিকিৎসক চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চান। চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে লিভ টু আপিল করতে বলেন। পরে ২০১১ সালে লিভ টু আপিল করেন চিকিৎসকরা। সেই আপিল চলতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

গত ১২ জুলাই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর আপিলের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে ১১০ চিকিৎসক রিভিউ আবেদন করেন। সেই রিভিউ আবেদনের শুনানিকালে আদালত এই আদেশ দেন।