মেইন ম্যেনু

আফসানা আত্মহত্যা করলে রবিন পালাল কেন?

আফসানা আত্মহত্যা করলে রবিন পালাল কেন? এখনো তার হদিস মিলছে না কেন?- এমনই নানা প্রশ্ন তুলেছেন আফসানার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে আফসানার মামা হাসানুজ্জামান এবং পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিন ও নিহত ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌসের বিয়ের কাবিননামা পাওয়া গেছে। ওই কাবিননামা এখন কাফরুল থানা পুলিশের হাতে।

অবশ্য আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুকে ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে যে তথ্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। তবে চিকিৎসকের এ দাবিকে ‘বানোয়াট’ উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন আফসানার স্বজনরা।

আফসানার মামা হাসানুজ্জামান বলেন, আফসানা যদি আত্মহত্যা করে থাকেন তাহলে কেন নিজের ঘর ছেড়ে অন্যের ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করল? যে দুই ছেলে আফসানাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল তারা কোথায় গেল?

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে রবিনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ সে রবিন কোথায়? কেন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ কেন তার বিষয়ে কিছু বলছে না? আফসানা যদি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করল কেন? এলাকাবাসী ওই চিৎকার শুনেছে।

হাসানুজ্জামান বলেন, আফসানা ও রবিন ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কারও ভালোবাসার স্ত্রী মারা গেলে বা আত্মহত্যা স্বামী থাকবে পাগলপ্রায়। কান্নাকাটি করবে। তা না করে হাসপাতালে লাশ ফেলে রবিন পালালো কেন? এখনো তার হদিস মিলছে না কেন?

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর রবিন সন্দেহজনক আচরণ করেছে। আমাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে। আমরা সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় রবিন গা-ডাকা দিয়েছে। এসব কারণে স্পষ্ট যে, আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আফসানার মামা বলেন, ‘শিগগিরই হত্যা মামলা দায়ের করব। হত্যা মামলা দায়ের করতে যেহেতু দেরি হয়েই গেছে, তাই এমনভাবে মামলা করতে চাই যেন আসামিরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে না পারে। এ নিয়ে অ্যাডভোকেট ও স্বজনদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।’

জানত চাইলে কাফরুল থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। তদন্ত শেষে বিষয়টি মিডিয়ার কাছে খোলাসা করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকরর্তা ফজলুর রহমান একই ধরনের তথ্য দিয়ে বলেন, রবিনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা জানা যাবে। এর আগে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে রোবার সকালে ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের মো. সফিউজ্জামান আফসানার মৃত্যু ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে গণমাধ্যমকে জানায়।

এ বিষয়ে আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ডাক্তারের বক্তব্যে আমরা হতভম্ভ। আমি বিশ্বাস করি না যে, আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটিকে তনুর হত্যাকাণ্ডের মতোই সাজানো হচ্ছে বলে আশংকা করছি।’

আফসানার পরিবারের অভিযোগ, রবিন ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় একটি বিশেষ মহল তাকে রক্ষার চেষ্টা করছে।

আফসানার মানিকদির বাসার প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, আফসানা ও রবিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। তবে বিষয়টি আফসানার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকে জানতো না।

আফসানা মিরপুরের শেওড়াপাড়ার সাইক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৩ আগস্ট বিকালে দুজন যুবক সিএনজিতে করে তার লাশ মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ সময় জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য স্ট্রেচার নিয়ে আনতে বললে তারা সিএনজির ভাড়া মেটাতে যাচ্ছে বলে সরে পড়ে। পরে হাসপাতাল থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার গলায় কালো রঙের একটি গভীর দাগ দেখা যায়।

ওইদিন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আফসানার মৃত্যু হয়েছে।