মেইন ম্যেনু

আফ্রিদি-মিয়াঁদাদের মাঝে মধ্যস্ততা করতে চান আকরাম

পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়কের মাঝে যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়েছে তা থামাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন আরেক অধিনায়ক এবং জনপ্রিয় ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। শহিদ আফ্রিদি এবং জাভেদ মিয়াঁদাদের মধ্যে তুমুল ঝড়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে ওয়াসিম আকরাম বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য কখনওই কল্যাণকর নয়। আমি চাই এর অবসান হোক এবং প্রয়োজনে আমি মধ্যস্থতা করতে চাই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার আগে একটি ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলতে চান আফ্রিদি। এই অনুরোধ তিনি জানিয়ে রাখছেন পিসিবির কাছে। আফ্রিদির এই চাওয়াকে অর্থ উপার্জনের ধান্দা বলে অভিহিত করেছেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। তিনি বলেছেন, সবই টাকা কামানোর ধান্দা।

জবাবে আফ্রিদি বলেছিলেন, মিয়াঁদাদকে আমি বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করি; কিন্তু তিনি অর্থের কাঙ্গাল। অর্থ ছাড়া কিছু বোঝেন না।’ আফ্রিদির এই মন্তব্য শুনে এক টিভি সাক্ষাৎকারে রেগে-মেগে যান মিয়াঁদাদ। তিনি আফ্রিদিকে ম্যাচ ফিক্সার অভিহিত করে বলেন, ‘সে তো ম্যাচ ফিক্সিং করতো। তার অধিনায়কত্বের সময় পুরো দলই ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুরো দেশকেই সে বিক্রি করে দিয়েছে। সে দেশদ্রোহী।’

এই মন্তব্যের জেরে শহিদ আফ্রিদিও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, মিয়াঁদাদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবেন। পরে সেটা না করে তিনি টুইটারের মাধ্যমে জবাব দেন। বলেন, ‘তিনি (মিয়াঁদাদ) একসময় আমার মেন্টর ছিলেন। আমার বড় ভাই। কিন্তু তিনি যা বলেছেন ঠিক বলেননি। এসব প্রমাণ করতে হবে। না হয় আমি তাকে আদালতে তুলবো।’

মিয়াঁদাদ পরে জানিয়েছেন, তিনি আফ্রিদির মন্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এর জবাবে আফ্রিদি টুইটারেই লিখেছেন, ‘তিনি আমাকে ক্ষমা করেছেন শুনে খুশি হলাম। তাকে আমি বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করি। তবে, তিনি আমার ওপর ফিক্সিংয়ের যে অভিযোগ এনেছেন, সে মন্তব্যগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। না হয় অবশ্যই আমি আদালতে মামলা করবো। আদালতই সিদ্ধান্ত দেবে কে সঠিক।’

দু’জনের এমন ঝগড়ার পর ওয়াসিম আকরাম বেশ হতাশা ব্যাক্ত করেন। তিনি লেখেন, ‘জাভেদ ভাই এবং শহিদ আফ্রিদি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পাকিস্তানের জন্যও। অথচ তাদের দু’জনের মধ্যে এমন কিছু ঘটনা দেখতে পাচ্ছি যা কখনওই কাম্য ছিল না। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই এর একটা সমাধান হবে আশা করছি।’

ওয়াসিম আকরাম এরপরই বলেছেন, ‘আমি দু’জনের কাছেই বার্তা পাঠিয়েছি। তারা যা করছে ঠিক করছে না। আমি তাদের মাঝে যথাযত মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি তারা আমার প্রস্তাব শুনবে এবং দ্রুতই আমি দু’জনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে পারবো।’