মেইন ম্যেনু

আবারো ট্রাইব্যুনাল অবমাননা জাফরুল্লার

ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন বিচারককে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য ও কটূক্তি করায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আবারো (৩য় বার) ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার এ অভিযোগের পক্ষে আবেদন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, মুক্তিযোদ্ধা আলী আসগর, মুক্তিযোদ্ধা শেখ নজরুল ইসলাম এবং গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহবায়ক কামাল পাশা চৌধুরী ও কর্মী এফ এম শাহীন।

পরে অভিযোগকারীদের পক্ষে আবেদনটি আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামিম আজিজ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করেন ।

আগামীকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন আদালত অবমাননার দায়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এক ঘণ্টার কারাদণ্ড হিসেবে এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে একমাসের কারাদণ্ড সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে ট্রাইব্যুনালের সাজার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়ায় তার এ সাজা হয়।

ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে এজলাসে বাকবিতণ্ডা, ট্রাইব্যুনাল ও বিচারপতিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তিনি।

এমনকি সাজা ভোগ শেষে বাইরে বেরিয়ে উক্ত বিচারপতিদেরকে ‘মানসিক অসুস্থ’ বলেও কটূক্তি করেন তিনি।

গত ২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ বার্গম্যানকে আদালত অবমাননার অভিযোগে সাজা প্রদান করে আদেশ দেয়। এরপর ২০ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো ‘বার্গম্যানের সাজায় ৫০ নাগরিকের উদ্বেগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। ওই সূত্র ধরেই গত ২৩ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমস একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে।

পরে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘বার্গম্যানের সাজায় ৫০ নাগরিকের উদ্বেগ’ সংক্রান্ত সংবাদ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে সকল বিশিষ্ট নাগরিকের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতির কপি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিতে গত ২৮ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদককে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

পরবর্তীতে খুশি কবির বিবৃতি থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন।

এরপর আরো দুই মেয়াদে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুলসহ ২৪ জনকে ক্ষমা প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল।

পরে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় আরো দুজনকে ক্ষমা করে ট্রাইব্যুনাল অবশিষ্ট ২৩ নাগরিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

উক্ত রুলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব্যতীত সকলেকেই সতর্ক করে সাধারণ ক্ষমা করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বারের মত ট্রাইব্যুনাল অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সাজা প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল।