মেইন ম্যেনু

আবারো বিশ্ব গণমাধ্যমে নিজামীর ফাঁসি

মানবতাবিরোধী মতিউর রহমান নিজামীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আবারো প্রকাশ করা হয়েছে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহালের খবর।

এর আগেও ২০১৪ সালের অক্টোবরে নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই সময়ও বিশ্ব গণমাধ্যমে নিজামীর ফাঁসি নিয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী বার্তাসংস্থা রয়টার্স ‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে ইসলামী দলের নেতার ফাঁসি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে আইনজীবীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে নৃশংসতার দায়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট শীর্ষ ইসলামি দলের নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল বাতিল করে দিয়েছে। ফলে যেকোনো সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে।

এতে আরো বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট গণহত্যা, ধর্ষণ ও ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় শীর্ষ বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। ৭৩ বছর বয়সী নিজামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃৃত্বাধীন সরকারের একজন সাবেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন; তখন থেকেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি ‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে ইসলামী নেতার ফাঁসি’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে বলছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের শীর্ষ ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামির নেতার ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।

নিজামীর চূড়ান্ত আপিল খারিজ করে দেওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমা ছাড়া তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই’।

‘চূড়ান্ত আপিলে বাংলাদেশে ইসলামী নেতার হার’ শিরোনামে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামিক রাজনৈতিক দলের প্রধান মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলে হেরে গেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়াই এখন তার একমাত্র আশা।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১০ সালে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন রাজনীতিকের মৃত্যদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলছে, ১৯৭১ সালে গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার দেশটির ইসলামি দলের শীর্ষ নেতার ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, যেকোনো সময় তাকে ঝুলানো হতে পারে।

‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতার ফাঁসি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের দৈনিক ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ধর্মীয় দলের প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। কয়েকদিনের মধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী হত্যা পরিকল্পনায় অভিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় দল জামায়াতে ইসলামির নেতা নিজামী।

বাংলাদেশে ক্ষমা প্রার্থনা কখনোই গ্রহণ করা হয় না এবং ৭৩ বছর বয়সী নিজামীর মৃত্যুদণ্ড সম্ভবত কয়েকদিনের মধ্যে কার্যকর করা হবে। ডন বলছে, ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, কর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যা অস্থিরতা তৈরি করেছে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে গত ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন। ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে নিজামীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেন ২৯ মার্চ।

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দাযের করা এক মামলায় নিজামীকে আটক করা হয়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জেলে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়াও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে নিজামীর ফাঁসির খবর প্রকাশ করা হয়েছে।