মেইন ম্যেনু

আবারো রাবির চার শিক্ষককে হুমকি

সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে ‘চাঁদা চেয়ে’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার দিনে একই মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন করে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ্ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং একই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আজিজুল হককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করা হয়। এরপর ফোনের ওপাশের ব্যক্তি নিজেকে সর্বহারা দলের নেতা তপন বলে পরিচয় দেয়। এরপর সে বলে, ‘আপনার ঝামেলা আছে, আমাদের ছেলেরা আপনার কাছে যেতে চাচ্ছে, আমি আটকে রেখেছি। জবাবে জাহাঙ্গীর আলম কে আপনি, আপনার বাসা কোথায়? এমন পাল্টা প্রশ্ন করলে হুমকিদাতা আবারো নিজেকে সর্বহারা দলের নেতার পরিচয় দেয় এবং ‘আপনার সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হবে’ বলে ফোন কেটে দেয়। শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হয়তো হুমকিদাতা আমার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। আমি তাকে সেই সুযোগ দেইনি।

অধ্যাপক ড. আজিজুল হক বলেন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে যে নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে, একই নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে কথা বলতে চাওয়া হয়। ফোন করা ব্যক্তির পরিচয় চাইলে সে পরিচয় না দিয়ে কথা বলতে সময় চায়। আমি ব্যস্ত থাকায় তাকে পরে ফোন করতে বলি। সে বলে ‘এতো সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয়, আপনি নিজেই কাল (মঙ্গলবার) দুপুরে আমাকে ফোন করবেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র দাস ও এনিমেল হাজবেন্ডি অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামানকে হুমকি দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র দাস বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমার কাছে ফোন আসে। ফোন করা ব্যক্তিটি বলে, ‘রাজশাহীর সাহেব বাজার, নিউমার্কেটের ছেলেরা কি আপনার অফিসে গেছে?’ জবাবে আমি না বললে সেই ব্যক্তি বলে, ‘তারা আপনার কাছে যেতে চাচ্ছে, আমরা তাদের আটকে রেখেছি। আমাদের বস কথা বলবে, কথা বলুন।’ এমন বললে আমি ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেয়। পরে শাহ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বললে, তাকে হুমকি দেওয়া নম্বরটির সঙ্গে আমাকে ফোন দেওয়া নম্বরটি মিলে যায়।’

হুমকির শিকার এস এম কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে একই নম্বর থেকে ফোন করে সর্বহারা দলের জিয়াউদ্দিন জিয়া পরিচয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। আমি বিষয়টি প্রক্টরকে জানিয়েছি। এ ছাড়া এ ব্যাপারে থানায় জিডি করব। একই নম্বর থেকে শিক্ষকদের বার বার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, চারজনই শিক্ষককে হুমকির বিষয়টি মুঠোফোনে আমাকে জানিয়েছেন। আমি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের থানায় জিডি করতে বলেছি।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, হুমকির ঘটনা জেনেছি। এখনো কেউ লিখিতভাবে কোনো করেননি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, একইভাবে ২০১৫ সালে লালবাহিনী, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, চরমপন্থি গ্রুপ কিংবা সর্বহারা দলের পরিচয়ে চাঁদা চেয়ে কথাসাহিত্যিক ড. হাসান আজিজুল হকসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জনকে শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)