মেইন ম্যেনু

আবির নিখোঁজের এতদিন পরে জিডি কেন?

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আবির রহমান (২৩) নিখোঁজ হন চলতি বছরের ১ মার্চ। আর তার সন্ধান পেতে বাবা সিরাজুল ইসলাম জিডি করেন ৬ জুলাই। এর ঠিক পরের দিনই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আবির। পরে স্থানীয় একটি মেডিকেলে তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (৮ জুলাই) শোলাকিয়ায় নিহত যুবকের পরিচয় প্রকাশের পর জিডির বিষয়টিও সামনে আসে। সন্ধ্যায় ভাটার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল মুত্তাকিন নিহত যুবক আবিরের বাবার জিডি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু নিখোঁজের এতদিন পর হামলার আগের দিনই কেন জিডি করা হল, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

গত ১ জুলাই রাজধানীর আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই নিখোঁজদের বিষয়ে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। অনেকেই আবিরের বাবার দেরিতে জিডি করার কারণ হিসেবে এটিকেও দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন, হামলার সঙ্গে জিডির তারিখটা মিলে যাওয়া একটা ‘কো-ইনসিডেন্ট’।

ভাটার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল মুত্তাকিন বলেন, ‘ঈদের আগের দিন (বুধবার) সন্ধ্যায় সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে দাবি করে থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ২৯৪। ’

তিনি আরো বলেন, ‘জিডি করার পর বিভিন্ন স্থানে আবিরের সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তার হদিস পাওয়া যায়নি।’

ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, আবির পরিবারের সাথেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৪ রোডের ৫১/এ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার। সে ১ মার্চ বসুন্ধরার বাসা থেকে চলে যায়। এরপর আর সে পরিবারের সাথে কোনো যোগযোগ করেননি বলে জিডি উল্লেখ করেছেন আবিরের বাবা।

এদিকে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, আবির নিখোঁজের পর তার বড় ভাই আশিকুর রহমান গণমাধ্যমে একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। সেটি দেখেই নিহতের ১৮ ঘণ্টা পর আবিরকে শনাক্ত করা হয়।

আবিরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান।

এরআগে, ১ জুলাই গুলশানের কূটনীতিক পাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করা হয়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গ্রেনেডে প্রাণ যায় ডিবির এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খানের।

পরদিন শনিবার সকালে সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ১৩ জীবিত জিম্মিসহ ৬ জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে নর্থ সাউথের সাবেক এক ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার নাম নিবরাস ইসলাম। তিনিও দীর্ঘসময় বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টার দিকে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের মাঠের কাছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ, গৃহবধূ ঝর্না রানী ও সন্ত্রাসী আবির নিহত হয়। এছাড়া আহত হন আরো অন্তত ৮ জন। এদের মধ্যে ৬ পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়।-বাংলামেইল