মেইন ম্যেনু

আবেগ প্রবণ হয়ে পড়লেন মুজাহিদ এবং..

মানবতাবিরোধী অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মুজাহিদের স্ত্রী ও ছোট ছেলেসহ পরিবারের পাঁচ জন সদস্য বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন।আধা ঘণ্টার বেশি তাদের সঙ্গে কথা হয়। পরে তারা বেড়িয়ে আসেন। এ সময় মুজাহিদের স্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কাছে ন্যয় বিচার আশা করছি।

বেলা ১১টার একটিু আগেই পরিবারের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান এবং এর পর পরই তারা মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন।এদের মধ্যে মুজাহিদের স্ত্রী ও ছোট ছেলে ছিলেন।

কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিজীবন কাটানো মুজাহিদ পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন। এ সময় তার দুচোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। এই পরিস্থিতি দেখে তার স্ত্রী কেঁদে ফেলেন। এবং দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কিছু একটা বলার চেষ্টা করেন। পরক্ষণেই মুজাহিদ নিজেকে সামলে নেন এবং স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন।

এর আগে মুজাহিদের আইনজীবী শিশির মো. মুনির জানিয়েছিলেন, মুজাহিদের ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুরসহ পাঁচজন দেখা করতে কারাগারে যাবেন। গত ৩ অক্টোবর মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করেন তার আইনজীবীরা। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে মুজাহিদের পক্ষ থেকে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে হবে। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মুজাহিদের আইনজীবীরা আপিল করেন। সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মানবতাবিরোধী মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। ওইদিনই তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার দুই ফাঁসির আসামির দণ্ড কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে এবং কাশিমপুর কারাগারে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ।

মুজাহিদ রিভিউ আবেদন করার জন্য বৃহস্পতিবার থেকে ১৫ দিন সময় পাবেন। রিভিউ নিষ্পত্তির আগে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।