মেইন ম্যেনু

আমনের বাম্পার ফলনে ভোলার কৃষকের হাসি

ভোলায় কৃষকের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেত্রে এখন পাকা ধানের ঘ্রান। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মাঝে। ধান বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন এমন আশা তাদের চোঁখ-মুখে।
কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমন আবাদ করে ভাগ্য খুলেছে তাদের। এছাড়াও মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে ছিলো। রোগ ও পোকার আক্রমন ছাড়াই বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি কৃষক, সন্তুুষ্ট কৃষি বিভাগও।
সদর উপজেলা আলীনগর, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, ধনিয়া, ইলিশাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেত্রে আমনের সমারোহ। পাকা ধানের ক্ষেত্রে কৃষকের হাসি মুখ। আমন উৎপাদনের খরচ পুশিয়ে লাভের আশা করছেন চাষীরা। কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। আবার কেউ ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চাষীরা জানান, গত কয়েক বছর থেকে এ মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় বাজার দরও বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সদরের সাচিয়া গ্রামের ধান চাষী মো: আলাউদ্দিন জানান, এ বছর ৬ গন্ডা জমিতে আমনের আবাদ করেছি, ক্ষেতে কোন পোকা মাকড়ের আক্রমন নেই। ফলন অনেক ভালো।
ধান চাষী হানিফ জঙ্গি জানান, জমি চাষ থেকে শুরু করে চারা রোপন, আগাছা দমন, সার ওষুধ প্রয়োগ ও ক্ষেতের নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। ফলনও এবার অনেক ভালো। উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। তাই ভালো বাজার দর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২ এক জমিতে আমনের আবাদ করেছেন জানিয়েছে ধান চাষী সিরাজ উদ্দিন বলেন, ১০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হয়েছে। এবার একর প্রতি ৪০/৪৫ মন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারন এ মৌসুমে ফসলের ক্ষেত্রে কোন বিপর্যয় দেখা দেয়নি।
একই কথা জানান আবু তাহেরসহ অন্যরা। তারা বলেন, নিজের পুজি, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে আমনের আবাদ করেছি, ক্ষেতের অবস্থা অনেক ভালো। তাই ধান বিক্রির টাকা দিয়ে ঋন পরিশোধ ও আনুসাঙ্গিক খরচ পুশিয়ে অনেক লাভবান হতে পারবো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, জেলায় এ বছর এক লাখ ৮২ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে উফসি ও স্থানীয় জাতের আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০ হেক্টর উফসী ও ৭৬ হাজার ৯৪৫ হেক্টর স্থানীয় জাতের আমন রয়েছে।
সদর উপজেলায় এ মৌসুমে আমন ও উফসীর ২৫ হাজার ৬৪৫ হেক্টর, দৌলতখান উপজেলায় স্থানীয় ও উফসীর ১৪ হাজার ২৮০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্থানীয় ও উফসী জাতের ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর , তজুমদ্দিন উপজেলায় দুই জাতের মোট ১১ হাজার ১৫০ হেক্টর, লালমোহন উপজেলায় স্থানীয় ও উফসী জাতের ২৫ হাজার ৬৬০, চরফ্যাশন উপজেলায় স্থানীয় ও উফসী জাতের ৭১ হাজার ৭৯০ হেক্টর ও মনপুরা উপজেলায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও উফসী জাতের আমনের আবাদ হয়।
জেলায় এ বছর আমনের লক্ষমাত্রা ছিলো ১লাখ ৮০ হাজার ৫২৫ হেক্টর। লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বেশী জমিতে এর আবাদ হয়।
এদিকে, শুধু জেলা সদর নয় এ বছর দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখানকার কৃষকের মাঝেও হাসি ফুটেছে বলে জানিয়েছে চাষীরা। আগামীতে বিপুল উৎসাহ নিয়ে তারা আমন আবাধে ঝুকে পড়বেন বলেও জানান চাষীরা।
এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যখনি কৃষকরা কোন সমস্যায় পড়েছেন তাৎক্ষনিক মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাদের ফসল রক্ষার পরামর্শ দেন। এছাড়াও ফসলের ক্ষেত্রে ক্ষতির আশংকায় স্কোকাড গঠন করা হয়েছে। বিতরন করা হয়েছে লিফলেট। কৃষকদের বাড়ি বাড়ি উঠান বৈঠক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভালো। লক্ষমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশী হয়েছে। এতে কৃষকরা আগামীতেও আমন আবাদে অনেক বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবছরই ভোলার উৎপাদিত ধান জেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে বিক্রি হচ্ছে।