মেইন ম্যেনু

আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে রাউজানে কৃষক

চলছে আগষ্ট মাস। আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময় এখন। উচ্চফলনশীল এই ধানের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় জুলাই থেকে আগষ্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। সে হিসাবে আর মাত্র কয়েকদিন পরই শেষ হবে চারা রোপনের সময়। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানেও আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণীরা। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ধানী জমিতে চলছে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ততা।

এবার আমন মৌসুমে বুকভরা আশা নিয়ে দিন ভর মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমন মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন জমিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতি প্রবল বর্ষণের ফলে দক্ষিণ রাউজানে আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্র বেশি হওয়ায় কৃষকদের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সকলেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষাবাদে। বাড়ির থেকে বের হলেই দেখা যায় চারদিকে মাঠ আর মাঠ, কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন ধান রোপনের কাজে। চলতি বছর আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির অভাব থেকে মুক্ত চাষীরা।

অন্যান্য বছর আকাশের পানির সংকট থাকলেও এবছর তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় নেই তাদের। তাই তাড়াতাড়ি করে আবাদ সারতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন সকলেই। দু’এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপজেলার আমন চাষাবাদ শেষ হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

তারা আরোও বলেন, গত বছর আমন মৌসুমের ধানের ন্যায্যদাম না পাওয়ায় অনেক চাষীরা হতাশ। জমিতে বা¤পার ফলন হলেও ধান বিক্রি করতে হয়েছে মন প্রতি মাত্র ৬শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা করে। পরবর্তিতে দাম বাড়বে বলে যারা ধান ষ্টক রেখেছিলেন, তারা এখনও ধান বিক্রি করতে পারেননি অনেকেই। ক্ষোভে পড়ে অনেক কৃষক ধান চাষ কমিয়ে আম ও মৎস্য চাষে জোর দিয়েছেন।

তবে সকল কৃষকের প্রত্যাশা, আগামীতে আশানুরূপ ধানের দাম পাবেন তারা। তাই আবারো প্রতি বছরের ন্যায় চাষাবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, আমান ধানের বা¤পার ফলনে তারা বিশেষ বিশেষ কিছু কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরোও জানান, সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র উদ্যোগে উপজেলার কৃষকদের মাঝে জনপতি ১০ কেজি করে ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বৎসর আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের বা¤পার ফলন উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের নির্ধারণকৃত লক্ষমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে বলে আশা করছি।