মেইন ম্যেনু

আমরাই ঘাড় ধরে সন্তানদের ঢুকিয়ে দিচ্ছি মাদক আর পর্ণোগ্রাফির আগুনে!

শেরাটন হোটেলের পাশে মিন্টু রোড সংলগ্ন এক সময় প্রধানমন্ত্রীর পুরাতন বাসভবনের পাশ দিয়ে দিয়ে স্টেশন যাবার সময় প্রায় আমার ছোট মেয়ে আফসোস করে বলে, “বাবা আমাদের এখানে একদিন থাকতে দেবে না?” কেন মা? “ইস! কি মজাই না হত, কত বড় বাড়ি আর এলাকা। কত মজা করে খেলতে পারতাম!!” তেজগাঁ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাবার সময়ও আমার মেয়ের চোখ আনন্দে চকচক করে ওঠে। “কত সুন্দর লন, আর বাগান বাবা, ঘাসের উপর শুয়ে থাকতে কত মজাই না হত!!

আমার ভাগ্য ভাল যে, গণভবনের পাশ দিয়ে যাবার সময়, সে এখনও এরকম কোন প্রস্তাব দেয়নি।
মেয়ে আমার সামান্য অবসর পেলে কংক্রিটের ছাদে দুই পিলারের সাথে মাছ ধরার বড় জাল কেটে হ্যামাক বানিয়ে তাতে ঝুলে শুয়ে থাকে। না, তার কল্পনার মাঠ নেই, নেই ঘাস কিংবা লতাপাতা। নেই সাজানো ফুলের বাগান। ঘাসের কোমল স্পর্শ তার পা ছুঁয়ে যায় না। মেয়ে আমার বড় হচ্ছে। ছোট বেলার সেই আনন্দ উচ্ছ্বাস, হাসি আর খুশির ফল্গুধারা, নিয়মতান্ত্রিক রবোটিক আর ইট পাথরের জীবনের মাঝে হারিয়ে গেছে তা।

সারাদিন কাটে স্কুল আর পড়াশুনায়। বইয়ের ভারে কুঁজো হয়ে গেছে আমার সন্তানের মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড আর কখনই সোজা হবে না এই নোংরা সমাজ ব্যবস্থায়। মিথ্যার বেসাতি, অসততার দাম্ভিকতা আর অশ্লীলতার বেড়াজালে আমাদের সোনার সন্তান হারিয়ে যাবে একদিন।

সবুজের ছায়া আর মাটির মায়া কেড়ে নিয়েছি আমরা তাদের জীবন থেকে। ঘাড় ধরে ঢুকিয়ে দিচ্ছি তাদের মাদক আর পর্ণোগ্রাফির আগুনে। এই দায় আমাদের। দায়ী আমরা। দেখেও না দেখার ভান করে আমরাই ঠেলে দিচ্ছি আমাদের সন্তানদের অভিশপ্ত জীবনের দিকে।

মৃত্যু পথযাত্রী মা আইসিইউ’তে প্রায় কোমার দিকে চলে যাচ্ছেন, দুইটি ক্ষীণ শব্দ উচ্চারণ করার ক্ষমতা যদি আল্লাহ্‌ তাঁকে দেন, সে শব্দ দুটিও তিনি উচ্চারণ করেন তাঁর সন্তানদের জন্য। তাঁর আদরের সন্তান “কেমন আছে”।

সব বাবা মার প্রতি অনুরোধ, আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। আমাদের পরম আদরের সন্তানরাই যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কি!!

প্লিজ, আমাদের দ্বারা কিছুই হবে না, এই চিন্তা করে হতাশ হয়ে হাত গুটিয়ে থেকে শেষ আলোটুকু নিভিয়ে দেবেন না। একটু ধরিয়ে দিলেই কাজ হচ্ছে। সচল হচ্ছে মেকানিজম। এই ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থায় পচে যাওয়া মানুষগুলোও তখন ঝাঁপিয়ে পড়ছে সৃষ্টির কাজে, ভাল কাজে। উন্নয়নের কাজে।

পর্ণোগ্রাফি বন্ধে আমার ছোট্ট একটি আবেদন বুলেটের গতি পেয়েছে। আমি জানি, তা থামাবার কারো উপায় নেই। প্রত্যেক ঘরেই আজ এ আগুন জ্বলছে। এ দহন পুড়ে ছারখার করে দেবে আমাদের সোনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ, ঘর সংসার। তাদের জন্য অপথে কুপথে কামানো অর্থের আগুনে সবাইকেই পুড়তে হবে।

অপেক্ষায় থাকুন আসছে সে সুখবর। আপনাদের নিয়েই হবে তা।

হেরে যাবার কোন অধ্যায়ে কখনও পড়তে হয়নি আমাকে। আমাকে আলো জ্বালাতেই হবে, আমার সন্তানের জন্য। সবুজ ঘাসের গালিচা আমি হয়ত তাকে উপহার দিতে পারব না। কিন্তু সবুজে ভরা স্বপ্ন দিয়ে যেতে পারব। যা দিয়ে একদিন তারা তৈরি করে নেবে সোনা ফলানো মাঠ আর জমিন।

লেখকঃ

মাহবুব কবির মিলন
যুগ্ম সচিব
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।