মেইন ম্যেনু

‘আমরা অনুতপ্ত, প্রতারিত’

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) থেকে যাওয়ার পক্ষের লোকেদের উচ্চকন্ঠের মধ্যে আবার ব্রেক্সিট (ব্রিটেন+এক্সিট) চাওয়াদের অনেকেই বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত গণভোটে তাদের বাছাইয়ের জন্য অনুতপ্ত বলে দাবি করেছেন।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডেপেন্ডেন্ট জানায়, শুক্রবারে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ আছে কিনা? নির্বাচনী সেবা প্রদানকারী কর্মচারীদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন তারা।

যুক্তরাজ্য নিশ্চিতভাবেই ইইউতে থাকবে এই বিশ্বাসের প্রতি প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যেই লিভ ভোট দিয়েছিলেন বলে অনেকেই আবার জনসম্মুখে স্বীকার করেছেন।

পাউন্ডের মূল্যহ্রাস এবং বাজারে ধ্বস নামার পরেই নতুন এই উদ্বেগ শুরু হয়েছে, যাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘ব্রিগ্রেট’ নামে। ইইউতে যে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড দেয়ার কথা তা জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় (এনএইচএস) বিনিয়োগের অঙ্গিকারে নাইজেল ফারাজের প্রচারণায় নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন কেউ কেউ।

লিভ ভোট দেয়া শিক্ষার্থী ম্যান্ডি সুথি আইটিভি নিউজকে বলেন, দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলে তিনি রিমেইনকে বেছে নিবেন এবং তার অভিভাবক এবং ভাই-বোনেরা সবাই তাদের বাছাইয়ের জন্য অনুতপ্ত।

“সুযোগ পেলে আমি নির্বাচনী কেন্দ্রে ফিরে যেতাম এবং থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিতাম। কারণ এই সকালেই আমি বাস্তবতার কষাঘাত টের পাচ্ছি।”

খুবই হতাশা অনুভব করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আশা করি যে আমাদের আবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাতে তহবিল যোগানের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না বলে ফারাজের বক্তব্যের পর সাফোল্কের বারি এসটি এডমান্ডসের দেহরক্ষী খেমবে গিবনসও তার সিদ্ধান্তের জন্য পস্তাচ্ছেন বলে জানান।

“আমরা ইইউ ছেড়ে দিলাম, ড্যাভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলো, আমরা বরিসের পক্ষ নিলাম ও নাইজেল মাত্র প্রকাশ করলো যে মূলত স্বাস্থ্য সেবার দাবিটি মিথ্যা। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মিথ্যাকে বিশ্বাস করেই লিভ ভোট দিয়েছি এবং আমি যেকোন কিছুর চেয়ে এর জন্য বেশি অনুতপ্ত। আমি আসলেই অনুভব করছি যে আমার ভোট লুট হয়েছে।”

এলবিসি রেডিও শোতে এই অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে একজন বলেন, নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে এবং কিছুটা অসুস্থ বোধ করছি।

যুক্তরাজ্যের অর্থনীর্তিতে ব্রেক্সিটের তাৎক্ষণিক পরিণতি বুঝতে পারলে এর পক্ষে ভোট দিতেন না বলে বিবিসিকে জানান এ্যাডাম।

তিনি বলেন, “ড্যাভিড ক্যামেরনের পদত্যাগ আমাকে স্তম্ভিত করেছে এবং যে অনিশ্চিয়তার মধ্যে আমরা পরেছি বলে এখন বুঝতে পারছি, তাতে আসলেই আমি অনেক ভীত। আমরা লিভের পক্ষে ভোট দেয়ায় আমি বিস্মিত। আমি ভাবতেই পারিনি এটা হবে। আমি ভাবিনি আমার ভোটে কিছু এসে যাবে। কারণ আমি ভেবেই নিয়েছিলাম আমরা ইইউতেই থাকছি।”

রিমেইনের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকায় অনেক ভোটারই ভোট দিতে যাননি। নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত বন্ধুর এমন একটি ম্যাসেজ শেয়ার করেছেন শেফিল্ডের একজন ব্লগার। ম্যাসেজটিতে লেখা, ইইউ ত্যাগ করতে চায় না বলে ভোটের পরিবর্তন বা ভোট দেওয়ার সুযোগ চেয়ে আমাদের কাছে লোকজন আজও ফোন করছে।

কয়েকজন ইইউপন্থি রাজনীতিবিদ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে কিছু লিভ ভোটার শুক্রবারই তাদের সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ পেয়েছিলেন। লেবার এমপি ডিয়ান এ্যাবোট এবং গ্রিন এমপি ক্যারোলিন লুকাস বলেন, অভিভাসন, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্যান্য প্রধান প্রধান সমস্যার বিপরীতে ইউরো-সংশয়বাদিতা এক ধরনের বিকল্প তৈরি করেছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেন, রিমেইনের পক্ষে প্রচারণা জনগণকে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে যে এই গণভোট সরকার বা প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ নয়।

বৃহস্পতিবারের ঐতিহাসিক গণভোটকে সামনে রেখে মতামত জরিপগুলোতে রিমেইনের পক্ষেই পাল্লা ভারি ছিল। যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে এবং ১০ শতাংশের মতো দোদুল্যমান ভোটার একটি বড় প্রভাব রাখবেন বলে প্রতিয়মান হয়েছিলো।

চূড়ান্ত ফলে দেখা যায় লিভের পক্ষে ভোট ৫১.৯ শতাংশ (১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪২টি) এবং রিমেইনের ৪৮.১ শতাংশ (১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৪১টি)।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফল দ্বিতীয়বারের মতো গণভোট আয়োজনের দাবি জোড়ালো করছে। আবার ইইউ বর্জনের পক্ষাবলম্বনকারীদের অবস্থান পরিবর্তনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রেক্সিট পক্ষের কেউ কেউ।

পল টুইট করেন, “তো লিভ ভোটাররা বুঝতে পেরেছে যে তারা কি করেছে এবং তার জন্য অনুতপ্ত এবং আবারও কি তাদের রিমেইনের পক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে? এখন কিছুটা দেরি হয়ে গেছে।

আরেকজন বলেন, মানুষ লিভে ভোট দিয়েছে এবং এখন এর জন্য অনুতপ্ত, এটা আসলেই বিরক্তিকর। দয়া করে চুপ করুন। এটা আপনাকে কোন সাহায্য করবে না।

এই ফল স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনায় জ্বালানি দিচ্ছে। যেখানকার সকল নির্বাচনী জেলা রিমেইনে ভোট দিয়েছে। এরই মধ্যে ইইউএর সাথে থাকতে চেয়ে এবং যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার দাবিতে লন্ডন একটি আবেদন করেছে।