মেইন ম্যেনু

‘আমাকে যন্ত্রণা দিয়ে যৌনতা ভোগ করতে চায়’

কয়েনের এপিঠ আর ওপিঠ। এক সঙ্গেই থাকে। কিন্তু চরিত্রের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তেমনই কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের চরিত্রের দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিক যখন প্রকাশ পায়, দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে এই মানুষটিকে আপনি অন্যভাবে চেনেন। খানিকটা এমনই হয়েছে চাকরিরতা এক নারীর সঙ্গে।

‘অফিসে আমার এক বন্ধু রয়েছে, যে বন্ডেজ লাভার। ও চায় ওর সমস্ত ফ্যান্টাসিগুলি আমার ওপর প্রয়োগ করবে। আমায় যন্ত্রণা দেবে, কষ্ট দেবে। কিন্তু এটাকে ও সেক্স হিসাবে মনে করে না। সকালের বন্ধুর সঙ্গে আমি রাতের এই বন্ডেজ লাভারকে কিছুতেই মেলাতে পারি না।

বাড়ি থেকে দূরে চাকরি করি। অফিসে এবং বাইরে একমাত্র সে-ই আমার বন্ধু। আমি ওর সঙ্গে সময় কাটাতে খুব পছন্দ করি। সকালে ভীষণ হাসিখুশি, চার্মিং থাকে। আমার মানসিকতার সঙ্গে ওর অনেক কিছুই মিলে যায়। ভালো বন্ধু বলতে যা বোঝায় তার সব গুণই ওর মধ্যে রয়েছে। কিন্তু রাত হলেই যেন ও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষে পরিণত হয়। আমার সঙ্গে ও ইরোটিক কথা বলে, সেক্স করতে চায়। এ জন্য আমি ওর সঙ্গে কথা বলা অনেক কমিয়ে দিয়েছি। আগে কাজ শেষ হলে এসএমএসে অনেক কথা হত। সম্প্রতি সেটাও অনেক কমিয়ে দিয়েছি। আমি জানি ও এতে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু আমার কিছু করার নেই। আমি এটাও জানি, ও আমায় কোনও দিন ভালোবাসবে না বা বিয়ে করবে না। প্লিজ আমায় হেল্প করুন। আমি কী ভাবে ওর সঙ্গে ব্যবহার করব?’

এর উত্তর দিয়েছেন প্রখ্যাত মনোবিদ ডা. প্রিয়রঞ্জন অবিনাশ। তিনি জানাচ্ছেন, ‘প্রথমেই আমি আপনার সাহসের তারিফ করব। অনেকেই আপনার মতো এ রকমের সমস্যা ভোগ করেন, কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেন না। একেক জনের কাছে ভালোবাসার এককে মানে রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, ভালোবাসা মানে যৌনতা এবং প্যাশন। আসলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে। তাই ব্যালেন্স না করলে সব ঘেঁটে যায়। যেমনটা হয়েছে আপনার বন্ধুর ক্ষেত্রে।

আপনার চিঠিতে এটা পরিষ্কার যে, আপনার সঙ্গে ওর চিন্তাধারা কিছু মিললেও অনেকটাই মিলছে না। বিশেষত ভালোবাসার সংজ্ঞা আপনাদের দু’জনের কাছে ভিন্ন ভিন্ন। আপনি নানা উপায়ে ওকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যাতে রাতে আপনার সঙ্গে সে কথা না বলতে পারে। অর্থাত্‍ আপনি এ ব্যাপারগুলি পছন্দ করছেন না।

কিন্তু সেটা জোর গলার বলতেও পারছেন না। আমার মনে হয়, আপনার অবিলম্বে বন্ধুর সঙ্গে এ ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলা উচিত। এটা জানিয়ে দিন আপনি ওর নাইট ভার্শান-কে একেবারেই পছন্দ করছেন না। দৃঢ়তার সঙ্গে বলুন। এতে সে নিজের ভুলটাও বুঝতে পারবে। বন্ধু হিসাবে আপনি নিজের কাছে অন্তত পরিষ্কার থাকতে পারবেন।’

সূত্র: এই সময়